‘বাবা অসুস্থ’ বলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, নেপথ্যে চাচা

২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ PM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ PM
অপহৃত শিশু ও গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি

অপহৃত শিশু ও গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি © সংগৃহীত

প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও সেদিন আর ফেরা হয়নি। স্কুল ছুটির পর তাকে বলা হয়, তার বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাবাকে দেখতে যেতে হবে। পরিচিত আত্মীয়ের কথা বিশ্বাস করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে পড়ে শিশুটি। এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিল না। তবে দেড়দিনের মাথায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

শিশু তাসকিন চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ এ ঘটনায় মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ফয়সাল শিশুটির বাবার মামাতো ভাই। পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকে তিনি তাসকিনের চাচা এবং তিনিই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী।

উদ্ধারের পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, পুরো অপহরণের পরিকল্পনা করেছিলেন শিশুটিরই চাচা। ঘটনাটি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে, কারণ অপহরণের পর তিনিই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজেছেন, থানায় গেছেন, এমনকি মাজারে গিয়ে দোয়াও করেছেন।

পরিবার জানায়, গত ২১ জুলাই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাসকিন স্কুলে যায়। সকাল সাড়ে দশটায় ছুটি হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপহরণকারীরা তাসকিনকে জানায়, তার বাবা অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে হবে। পরিচিত আত্মীয়ের কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি তাদের সঙ্গে চলে যায়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অপহরণের স্থান ও আশপাশে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় বিভিন্ন এলাকার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। একপর্যায়ে অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং এর চালককে আংশিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সেই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে সরফভাটা এলাকার একটি মোড় থেকে তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল। অন্য দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তিও শিশুটির পরিবারের আত্মীয়। তাদের একজন অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপহরণের উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

৪২ কার্মদিবসে ফল প্রকাশ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভূতপূর্ব গতি…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
জ্বালানি সংকট নিয়ে যা জানাল সরকার  
  • ২২ জুলাই ২০২৬
৪৯তম বিসিএস: ক্যাডার পদ হারালেন দুই প্রার্থী
  • ২২ জুলাই ২০২৬
বুয়েটের নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম
  • ২২ জুলাই ২০২৬
প্লাস্টিক সার্জারির পর ভিনিসিয়ুসকে চিনতেই পারছেন না ভক্তরা
  • ২২ জুলাই ২০২৬
সেনাবাহিনীতে বেসামরিক ৫৪৮ পদে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন আগা…
  • ২২ জুলাই ২০২৬