ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে সালিশী বৈঠক থেকে অপহরণ © টিডিসি ফটো
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের রামনগর টেউরার চালা গ্রামে ধর্ষণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা যুবতীকে সালিশী থেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার এসআই লিটন মিয়া।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সাড়ে ৫ মাস আগে হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. ইয়াসিন মিয়া জোরপূর্বক ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে হুমকির মুখে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
ইদানীং ধর্ষিতার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিতে থাকলে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ডাক্তারি পরীক্ষার পর মেয়ের মা নাজমা খাতুন নিশ্চিত হন তার মেয়েটি সাড়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় দেখা দিলে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সাবেক মেম্বার জয়নাল আবেদীনের উপস্থিতিতে ধর্ষিতার বাড়িতে সালিশী বৈঠকে বসে। বিয়ের কাবিন নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধর্ষক তার পিতা জেঠা কাশেম আলী, ভাই শাহিনসহ ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সালিশ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতেই অসহায় ধর্ষিতার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর থেকে ধর্ষকের পরিবার গা ঢাকা দেয়। এখনো ধর্ষিতা নিখোঁজ রয়েছে।
সাবেক মেম্বার জয়নাল আবেদীন ধর্ষিতা অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কাবিন নিয়ে ধর্ষক পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেয়েটিকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যান ধর্ষক পরিবারের লোকজনসহ ১০/১২ জন। সে সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি। ধর্ষিতাকে টেন হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটির পায়ের স্যান্ডেল পাশের বাড়ির ঘরের পাশে পড়ে ছিল।
শালিসে থাকা শরিফুল নামের একজন জানান, তাদের সামনে থেকে মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়েছে। মেয়েটি এখন কোথায় আছে কেউ জানে না। আমরা এর বিচার চাই।
মেয়ের মা নাজমা আকতার বলেন, আমার মেয়েকে চোখের সামনে থেকে মারপিট করে অপহরণ করা হয়েছে। আমার মেয়ে এখন কোথায় আছে কিছুই জানি না। আমি আমার মেয়ে অপহরণের বিচার চাই।
থানার এসআই লিটন মিয়া জানান, অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপহৃতা ধর্ষিতা এখনো উদ্ধার হয়নি।
ফুলাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানাম, যারা গ্রাম সালিশের আয়োজন করেছে তাদের মধ্যে একটি কুচক্রী মহল আছে। আমরা আগে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।