ছবি এআই দিয়ে বানানো © এআই
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল টঙ্গীতে দিন দিন বাড়ছে ছিনতাই আতঙ্ক। বিশেষ করে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পোশাকশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়ক, টঙ্গী স্টেশন রোড, বাটাগেট, আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইকারী চক্র।
ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত টঙ্গী দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগরী। এখানে শত শত তৈরি পোশাক কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ভোর থেকেই লাখো মানুষের যাতায়াত শুরু হয়। গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী এসব সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ব্যস্ততাকেই পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, অন্ধকার কাটার আগেই অনেক পোশাকশ্রমিক, কারখানার কর্মী ও কর্মজীবী মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে একা চলাচলকারী পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং ভোরের শিফটে যাওয়া শ্রমিকরা ছিনতাইকারীদের সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআরটি উড়ালসড়ক ও আশপাশের কিছু অংশে ভোররাত ও গভীর রাতে মানুষের উপস্থিতি কমে যায়। পর্যাপ্ত আলোর অভাব, নিয়মিত নজরদারির ঘাটতি এবং নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই চালায়।
আরও পড়ুন: পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষায় কলি, চালাতে পারেন কম্পিউটার-স্মার্টফোনও
টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, রাতে কিংবা ভোরে উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। অনেকেই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তাই শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে দলবেঁধে চলাচল করেন।
পোশাকশ্রমিক খন্দকার মোশতাক বলেন, অনেক কারখানার ডিউটি শুরু হয় ভোরে, আবার অনেকের ছুটি হয় গভীর রাতে। এ সময় রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে। ছিনতাইকারীরা অনেক সময় অস্ত্র নিয়েও অবস্থান করে।
টঙ্গী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, টঙ্গী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল হয়। এই এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
কলেজ শিক্ষার্থী আলমগীর কবির বলেন, সকালে যখন কোচিং এর জন্য বের হই অনেক ভয় লাগে। প্রতিনিয়ত ছিনতাই হচ্ছে। পুলিশের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের মতে, টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিআরটি উড়ালসড়ক ও সংযোগ এলাকাগুলোয় স্থায়ীভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত সড়কবাতি নিশ্চিত করা এবং সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল জোরদার করা হলে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা-পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
আরও পড়ুন: জাবিতে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, উড়ালসড়ক ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিএমপি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। শিল্পনগরী টঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টঙ্গী দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন লাখো শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল হয়। তাই শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু স্থানীয় জনগণের স্বার্থেই নয়, জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন রাখার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।