উদ্ধার করা মিনিট্রাক © সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ভালুকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে লুট হওয়া সাতটি ষাঁড় গরু ও দুটি মিনি ট্রাক উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ। টানা ১৬ দিনের অভিযানে মানিকগঞ্জ, ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব গরু ও যানবাহন উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (২ জুন) উদ্ধার গরু ও মিনি ট্রাক দুটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লাউখাই এলাকার খামারি আরিফুর রহমান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে দুটি মিনি ট্রাকে করে সাতটি ষাঁড় গরু নিয়ে রওনা দেন।
গত ১৫ মে রাত সাড়ে তিনটার দিকে গরুবাহী যান দুটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি আইডিয়াল মোড়ে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের হায়েস মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের থামানোর সংকেত দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশের পোশাক এবং আরেকজন ডিবি পুলিশের জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। তারা গরুগুলো চোরাই বলে দাবি করে গরুর মালিক, কর্মচারী ও চালকদের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করা হয় এবং সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীদের টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকার একটি জঙ্গলে ফেলে রেখে গরু ও যানবাহন নিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় গরুর মালিক আরিফুর রহমান বাদী হয়ে ১৬ মে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। তিনি জানান, লুট হওয়া সাতটি ষাঁড়ের আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।
মামলার পরপরই গরু ও যানবাহন উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মানিকগঞ্জের শিবালয় এলাকা থেকে একটি খালি মিনি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। পরে সিংগাইর থানার চারিগ্রাম চৌরাস্তা এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজন নারীকে আটক করা হয়। তার বাড়ি থেকে দুটি ষাঁড় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার ধামরাই এলাকা থেকে অপর একটি মিনি ট্রাক এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে বাকি পাঁচটি ষাঁড় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী নাজিম উদ্দিন পলাতক।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, গরুবাহী দুটি মিনি ট্রাক ও সাতটি ষাঁড় লুটের ঘটনায় করা মামলার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে সব গরু ও যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।