মৃত শিশু গৃহকর্মী নিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরার হাসপাতালে আসা দম্পতি আটক

২০ মে ২০২৬, ১২:১৩ PM
আটক দুই ব্যক্তি

আটক দুই ব্যক্তি © সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে মোছা. মাইমুনা (১০) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘ সময় ধরে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটির মরদেহ নিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ছুটে আসা গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মাইমুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কালিসীমা গ্রামের ফুল মিয়ার সন্তান। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। এই ঘটনায় আটককৃতরা হলেন—পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবরার ফাইয়াজ (৩৪) এবং তার স্ত্রী আইনজীবী মেহনাজ অনন্যা (৩৪)। 

বুধবার (২০ মে) সকালে উত্তরা থেকে আটকের পর তাদের মিরপুর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে মিরপুর-২ নম্বরের একটি বাসায় ওই দম্পতির অধীনে গৃহকর্মীর কাজ করছিল শিশু মাইমুনা। অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে তাকে প্রায়ই অনাহারে রাখা হতো এবং তার ওপর নিয়মিত অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। শিশুটির পুরো শরীরজুড়ে নির্মম আঘাতের অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিহত শিশুর মা বিউটি আক্তার ওরফে সালমা অত্যন্ত আকুল হয়ে অভিযোগ করেন, আড়াই বছর আগে এক নারীর মাধ্যমে তিনি তাঁর মেয়েকে এই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। এরপর বারবার মিনতি করা সত্ত্বেও মেয়েটির সাথে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি চতুর গৃহকর্তারা তাঁদের বাসার সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও গোপন রেখেছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে আগে এত রোগা ছিল না, শরীরে কোনো দাগও ছিল না। ওরা আমার ফুটফুটে মেয়েটাকে পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলল।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গাউসুল আজম এভিনিউতে অবস্থিত ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, অন্য একটি হাসপাতালে কর্মরত ডা. মুনতাসির মাহমুদ ইভান নামে এক চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটিকে এখানে আনা হয়েছিল, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, মূল অভিযুক্ত ফাইয়াজের বন্ধু এই ডা. ইভানের পরামর্শেই পুরো বিষয়টি গোপন রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে লাশটি মিরপুর থেকে উত্তরার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।

এমনকি ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারের মুখ বন্ধ করতে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বা আপস-মীমাংসার একটি গোপন চেষ্টাও চালানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এই অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

অর্থের বিরোধ নিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক দম্পতিকে আটক করে। উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ জানান, নিহত শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও জখমের চিহ্ন দৃশ্যমান। প্রাথমিকভাবে এটি একটি নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। এই জঘন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গোবিপ্রবিতে নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের লেকপাড়ের সৌন্দর্য
  • ২০ মে ২০২৬
এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২০ মে ২০২৬
ইয়াবা বিক্রির সময় বিএনপি নেতাকে হাতেনাতে আটক পুলিশের
  • ২০ মে ২০২৬
চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না: ডিএমপি …
  • ২০ মে ২০২৬
সন্তান জন্মদানে নরমাল ডেলিভারির প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
  • ২০ মে ২০২৬
অনার্সে ভর্তির দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশের সময় জানাল জাতীয় …
  • ২০ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081