তনু হত্যার সন্দেহভাজন শাহিন আলম পালিয়েছে কুয়েতে

১৯ মে ২০২৬, ০৯:০৯ AM , আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:১১ AM
সন্দেহভাজন আসামি সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম

সন্দেহভাজন আসামি সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম © সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম দেশ ছেড়ে  কুয়েতে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলায় গতি আসার খবরে দেশ ছেড়ে পালান তিনি। 

শাহিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তার মোবাইল নম্বরগুলোর সর্বশেষ লোকেশন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত দেখা যায়। এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শাহিন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন। চাকরির খুব অল্প সময়ের মধ্যে শারীরিক ‘আনফিট’ থাকার কথা এলাকাবাসীর কাছে প্রচার করে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর কুমিল্লার বুড়িচংয়ের গোবিন্দপুরে গড়ে তোলেন গরুর বড় একটি খামার। দেশ ছাড়ার পর দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলে ভাড়া নিয়ে নেয় অন্য একটি পক্ষ।

তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম তদন্তকালে যে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে দাখিল করেছেন, সেখানে শাহিন আলমের নাম তিন নম্বরে রয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালত অনুমতি দিয়েছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম বলেন, সন্দেহভাজন আসামি শাহিন আলমের অবস্থান সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারি না। তার অবস্থান সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারলে গণমাধ্যমকে জানাবো। আমরা চাই একটি বড় সাফল্য নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবো।

২০১৬ সালে কলেজছাত্রী তনু হত্যার পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কিছুটা তদন্ত করে। কিন্তু সে সময় অপ্রাসঙ্গিক অনেকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করলেও নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন যাদের সন্দেহ করতেন এবং যাদের নাম গণমাধ্যমের কাছে বারবার বলেছেন তাদের কারও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তনুর বাবা বরাবরই অভিযোগ করেছেন, সিআইডি মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের হয়রানির পাশাপাশি তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, ‘যাদের নাম আমি বারবার বলেছি, সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা কাউকেই সামনে আনেননি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করেননি। সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক জাহিদের কথা বলেছি। অন্তত তাদের নমুনা সংগ্রহ করতো। তারা তা করেনি। আরও অনেকের নাম বলেছি। সেগুলোও সন্দেহের তালিকায় আনা হয়নি। আমার মেয়ে যাদের সঙ্গে কলেজ থিয়েটারে নাটক করতো, তাদেরকে এনেছে। কী আর বলবো?’

জানা গেছে, ২০১৬ সালে তদন্ত কর্মকর্তারা অন্তত ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশে পাঠিয়েছেন। সেখানকার ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের ৬ পাতার প্রতিবেদনে এই ১৩ জনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সোহাগী জাহান তনুর কাপড়ে পাওয়া পুরুষের ডিএনএর মিল না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে সময় যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তারা হলেন মাহামুদুল হাসান, মহাইমিনুল ইসলাম জিলানী, মেহেদী হাসান মুরাদ, মিজানুর রহমান সোহাগ, রকিবুল ইসলাম, রুবেল আহমেদ, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, শেখ পেয়ার আহমেদ, নুর আলম বাপ্পী, সোহেল রানা, ওয়ালী উল্লাহ হৃদয়, নুরুল আজম ও মোজ্জামেল হোসাইন। এদের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্যও আছেন, যে সংগঠনে তনু নাট্যকর্মী ছিলেন। 

সে সময়ই তনুর বাবা অভিযোগ করে বলেছিলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে সেনানিবাসের ভেতরে। আর তারা সেনানিবাসের বাইরের লোকদের নমুনা সংগ্রহ করে। ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের ছেলেদের হয়রানি করে।” পরে এই নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়েছিল।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের সে সময়ের অভিযোগের প্রমাণ মেলে সম্প্রতি প্রাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের ছয় পাতার প্রতিবেদনে। তিনি লিখেছেন, ডিএনএ নমুনা নেওয়া এই ব্যক্তিদের ডিএনএর সঙ্গে আলামতগুলোতে পাওয়া ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।

শিবিরের কর্মসূচিতে জামায়াত এমপির মোবাইল নিয়ে লাপাত্তা যুবক
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
রাতে নিখোঁজ, সকালে আদা ক্ষেতে মিলল কবিরাজের মরদেহ
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘সামার ২০২৬’-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
ডিএএডি স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানিতে সামার কোর্সের সুযোগ, করুন …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
ফাইনালের আগে বড় ধাক্কা খেল স্পেন
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence