শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারে রক্তাক্ত শিশু, জিহবায় গভীর ক্ষত

১৩ মে ২০২৬, ০৯:১১ AM , আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ AM
লালপুরে ডাস্টারের আঘাতে  শিশু তাওহীদের জিহবায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে

লালপুরে ডাস্টারের আঘাতে শিশু তাওহীদের জিহবায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে © সংগৃহীত

নাটোরের লালপুর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। আহত শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাওহীদ (৭)। সে উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের সোহানুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন কোনো এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী তাওহীদের দিকে একটি ডাস্টার ছুড়ে মারেন। সেটি শিশুটির চোয়ালে সজোরে আঘাত করলে তার জিহবা কেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় শিশুটি। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাওহীদকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধুপইল সার্জিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হচ্ছে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: হলে যাওয়ার সময় জাবি ছাত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা

ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবা সোহানুর রহমান অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, তার ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক এভাবে নিষ্ঠুরভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ধর্ম ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে আমি বেঞ্চের ওপর ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেছি। তবে ওই ডাস্টারের আঘাত সরাসরি শিক্ষার্থীর মুখে লাগেনি। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির সময় হয়তো শিশুটির মুখে আঘাত লেগে কেটে যেতে পারে।

ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, গতকাল ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চেঁচামেচি করছিল। এ সময় ক্লাসে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সহকারী শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন একটি ডাস্টার ছুঁড়ে মারেন। ডাস্টারটি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদের চোয়ালে আঘাত হানে, এতে তার জিহ্বা কেটে যায়। পরে আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

লালপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ–এর সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবার মুখ খুললেন আকবর আলী
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে উত্তীর্ণদের অভিনন্দন, অনুত্তীর্ণদের প্রতি সহমর্মিত…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের ফাইল চূড়ান্ত, পাবেন যেদিন
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
সর্বোচ্চ বহিষ্কার মাদ্রাসায়, সর্বনিম্ন কোন বোর্ডে
  • ১০ আগস্ট ২০২৬