৫৭টি মোবাইল ও প্রতারণার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে ইউনিট। © টিডিসি ফটো
ডিজিটাল অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’ এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫৭টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ৬৩ হাজার ৫৪২ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে এই ইউনিট।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল ও অর্থ মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মোবাইল উদ্ধার ছাড়াও এই সেলটি ক্লু-লেস হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, অনলাইন জুয়া, বিকাশ প্রতারণা ও সাইবার বুলিংয়ের মতো জটিল অপরাধের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে সাইবার অপরাধও একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে অপরিচিত কোনো লিংক বা অ্যাপস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য, পিন নম্বর, ওটিপি বা ব্যাংক সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য কারো সাথে শেয়ার না করার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিবি পুলিশের এএসআই ইকলাছুর রজমান মিঠুর নেতৃত্বে সাইবার সেলটি নিয়মিত ভিকটিমদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ৩৩ জন ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হওয়া ৭ জন ভিকটিমকে সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এই বিশেষায়িত ইউনিট।
উদ্ধারকৃত মোবাইল ও অর্থ ফিরে পেয়ে মালিকরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান এবং মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।