আরএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইজিপি © টিডিসি ফটো
জুলাই অভ্যুত্থানে ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যাসহ সকল প্রাণহানির ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
৫ আগস্টের ঘটনাবলি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ওই সময় পুলিশসহ অনেক লোক মারা গেছেন। আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার হবে এবং আইনে যা হওয়ার তাই হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শান্তিপূর্ণ ও সভ্য সমাজ গঠনে নাগরিকদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, আমাদের তরুণরা কথায় কথায় রাস্তায় নেমে আসে এবং সড়ক অবরোধ করে—এটি মোটেও ঠিক নয়, কারণ এতে আমাদের সকলেরই ক্ষতি হয়।
দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, আমাদের সমাজে প্রচুর শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। অন্যদিকে দেশের বাইরে টাকা পাচার হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর অবস্থাও সংকটাপন্ন। নানা কারণে তরুণরা মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তিনি সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন। জ্বালানি তেলের সংকট ও কালোবাজারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু-একটি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয় না; এক্ষেত্রে আমাদের নৈতিক চিন্তাভাবনারও উন্নতি ঘটাতে হবে। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরকে ‘স্মার্ট ও সেফ সিটি’ বা নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে, জামিন পাওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দেওয়া একটি চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইজিপি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। রাজশাহীর ঐতিহ্যগত শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের এক নম্বর এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে দেশের ব্যাংক ও শেয়ার বাজারসহ অর্থনৈতিক খাতের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং নতুন বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতে পুলিশ বাহিনীকে প্রধান ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।