আমেনা হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড়: মেয়েকে হত্যা করে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিলেন সৎ বাবা

০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ PM
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সৎ বাবা

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সৎ বাবা © টিডিসি ফটো

নরসিংদীর মাধবদীতে বহুল আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৎ বাবা আশরাফ আলী নিজেই মেয়েকে হত্যা করে অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)-র সঙ্গে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সূত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, আমেনা হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০–১২ দিন আগে হযরত আলীর কোতালিরচর এলাকার বাড়িতে আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার মিলে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমেনাকে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই তাকে হত্যা করেন সৎ বাবা আশরাফ আলী। গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

জবানবন্দিতে আশরাফ আলী উল্লেখ করেন, 'মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।'

পুলিশ জানায়, আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদীর কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি গ্রামে মতির বাড়িতে স্বপরিবারে ভাড়ায় বসবাস করতেন এবং রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।

এ ঘটনায় ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০) ও গাফফার (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শালিশ বসিয়ে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মো. আইয়ুব (৩০) ও ইছাহাক ওরফে ইছাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় সৎ বাবা দাবি করেছিলেন, বখাটে চক্র তার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে। 

পরেরদিন রাতেই গাজীপুর থেকে আমেনার প্রেমিক নুর মোহাম্মদ কে আটক করলে, প্রাথমিক ভাবে সে ধর্ষন ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিল।

তবে তদন্তে সেই বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সৎ বাবার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়।

ট্যাগ: নরসিংদী
বিদেশগমনে নিয়েছিলেন বিভাগীয় সুপারিশ, বার কাউন্সিল প্রিলিতেও…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারিকরণ হচ্ছে ভোলার তিন শিক্ষা প…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
জৈন্তাপুরে ফের হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
  • ৩১ জুলাই ২০২৬
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ শিক্ষক নিয়োগ দেবে বিভিন্ন বিভাগে, আব…
  • ৩১ জুলাই ২০২৬