ছুরিকাঘাতের প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন স্বামী হাবিবুর রহমান (২৭)। অবশেষে তাকে রাজবাড়ী থেকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে রাজবাড়ী জেলা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপি কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম।
গ্রেপ্তারের পূর্বে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান খাগড়াছড়ির পানছড়ি হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মইজ্জ্যারটেকের একটি নির্জন জঙ্গলে ডেকে নিয়ে সানোয়ারা বেগমকে (৪২) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তার দ্বিতীয় স্বামী হাবিবুর রহমান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশিক।
আহত সানোয়ারা বেগম চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাদরাসাপাড়া এলাকার মৃত ছগীর আহমেদের মেয়ে। তিনি বর্তমানে চাচা ফারুক আহমেদের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এ কর্মরত বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্বামী মারা গেছেন এবং পূর্বের সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমান স্বামীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে তার যোগাযোগ ছিল না। ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে হাবিবুর কৌশলে সানোয়ারাকে মইজ্জ্যারটেক এলাকার একটি বিরিয়ানির রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান। সেখান থেকে আবাসিক এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, অভিযুক্তকে রাজবাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।