আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে গিয়ে কক্সবাজারে নিখোঁজ হয়েছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সে উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনু ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের অপু দাশের মেয়ে। তারা একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টার দিকে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৭৫ জন তিনটি বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। শিক্ষা সফর শেষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সবাইকে বাসে ওঠার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের বাসে তোলার সময় তিনটি বাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তাদের খুঁজে এনে বাসে তোলেন। তবে সবশেষে পূজা রানী দাসকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে শিক্ষকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানিয়ে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর শিক্ষার্থীকে না পেয়ে শিক্ষকরা মিরসরাই ফিরে আসেন।
এদিকে শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন—অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত বড় শিক্ষা সফরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তদারকি ছিল কি না।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা অপু দাস বলেন, 'আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল কর্তৃপক্ষ পিকনিকের নামে আমার মেয়েকে কক্সবাজার নিয়ে গেছে। এত দূরে নিয়ে গেল, অথচ প্রধান শিক্ষক সফরে যাননি। এখনো তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। একজন শিক্ষক ফোন করে বলেছে, পূজাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নিয়ে মেয়েকে নিয়ে গেছেন, দায়িত্ব নিয়েই ফেরত দিতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে কেন পিকনিকে নিয়ে গেলেন? এমন দায়িত্বহীন কাজ কিভাবে করেন?' মেয়েকে ফিরে পেতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে যান নিখোঁজ পূজা রানীর বাবা।
শিক্ষা সফরে দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু রতনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এডিয়ে ফোন রেখে দেন। এবিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারকে ফোন দিলে তিনি ঝামেলায় আছেন বলে ফোন রেখে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌস হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।