সোনালী ব্যাংক
এস এম বাশার © টিডিসি সম্পাদিত
দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে কর্মরত ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক উপদেষ্টা বদলী আদেশ ঠেকাতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জিয়া পরিষদের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে।
অডিও রেকর্ডে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কর্মরত প্রিন্সিপাল অফিসার ও জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম বাশারকে অপর এক কর্মকর্তার বদলি ঠেকাতে ফোন দেয়া হয়। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বাশারকে বলেন, আপনি যে একাউন্ট দিয়েছেন, ওই একাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দিয়েছি, দুই-তিন মিনিটের মধ্যে পেয়ে যাবেন। তখন বাশার জিজ্ঞেস করেন মসজিদের তো? অপর প্রান্ত থেকে এর জবাবে বলা হয়, না রেজা স্যারের বিষয়ে, তখন বাশার বলেন, আরে... এসব বিষয় ফোনে ফোনে না কয়ে নেটে কল দাও। এক পর্যায়ে বাশারকে জানানো হয়, ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি রেজা স্যারের জন্য, আর মসজিদের জন্য ১০ হাজার দেবো, সেটা বিকাশ নম্বর দেন, বিকাশে দিয়ে দেবো।
কিন্তু বাশার বিকাশে না দেয়ার অনুরোধ করে বলেন, বিকাশে দিবা কেন মামা, বিকাশে সমস্যা আছে। তখন অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি খরচসহ পাঠানোর কথা বলেন। ওই ব্যক্তি আরও বলেন, রেজা স্যারের জন্য হ্যান্ডসাম এমাউন্ট দেবো বলেছিলাম। আপনি ২০ বলেছিলেন, আমি দ্বিগুণ করে ৪০ হাজার দিছি। এক পর্যায়ে কাজ করতে না পারলে টাকা পরবর্তীতে ফেরত দেয়ার কথাও বলেন বাশার।
ফাঁস হওয়া অডিওর কণ্ঠটি নিজের স্বীকার করে এস এম বাশার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি ছিল মসজিদের টাকার বিষয়ে। আমার গ্রামের বাড়িতে একটি মসজিদ করতেছি, সেটির সভাপতিও আমি। ওই মসজিদের জন্য টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু ১০ হাজার টাকা মসজিদের এবং বাকি টাকা বদলি ঠেকানোর জন্য অডিওতে উল্লেখ আছে; সেই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কোনো যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি এই ব্যাংক কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিয়ে জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র চাকমা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি বেশ আগের, কমিটি গঠন হয়েছিল কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কমিটির প্রতিবেদন চাইলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেটি বের করতে বলেন সুভাষ। পরে বলেন, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কমিটির প্রতিবেদন আছে। একইসঙ্গে এই প্রতিবেদক ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস নামে কোনো মিডিয়া হাউজ আছে কিনা, সেটিও যাচাই করে নেয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি।
সার্বিক বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলে জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভিসি আবদুল লতিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম করার সুযোগ নেই। জিয়া পরিষদ একটি আদর্শিক দল। এ ধরনের কোন বিষয় আছে কিনা আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘণ্টাখানেক পর তিনি কল করে জানান, 'বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি তদন্তের সময় দেখেছে, অপর প্রান্তে যিনি ছিলেন তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।'