নারীসহ মোট ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে © টিডিসি ফটো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) শেষ হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেলা ৩টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের বাকি সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
এদিকে, এই নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু গাইবান্ধা জেলায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে নারীসহ ৪৮ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এর আগেও ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় জালিয়াতির অভিযোগে পরীক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ মোট ৩৮ জনকে আটক করেছিল র্যাব।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশের মতো গাইবান্ধাতেও ৪৩টি কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে মোট ৪৮ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১৩ জন পরীক্ষার্থী আটক হয়েছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা আবদুল কাইয়ূম হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার সময় জেলার ২৪টি কেন্দ্র থেকে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে নারী পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রতিটি কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, অসদুপায় অবলম্বন ও অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহনের অভিযোগে আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।