ঢাবি অধ্যাপক

মামলার এজাহারে ছাত্রকে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের চিত্র

১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২ PM , আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৬ PM
ঢাবির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিম

ঢাবির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিম © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘদিন ধরে নয়জন পুরুষ শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন।

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ওসি সাজ্জাদ রোমন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়ায় ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সমকামিতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলায় গ্রেফতারের পর অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হয়েছে। শুনানি নিয়ে জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পদার্থবিজ্ঞান মাইনর ল্যাব পরীক্ষায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন ছাত্র। অধ্যাপক বাদীর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাকে তার মিরপুর মডেল থানাধীন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় যেতে বলেন।

আরও পড়ুন: ৯ ছাত্র যৌন নিপীড়নের শিকার ঢাবির সেই অধ্যাপকের

বাদী জানান, ২৭ সেপ্টেমর সকাল আনুমানিক ১০টায় তিনি সরল বিশ্বাসে অধ্যাপকের বাসায় যান। সেখানে অধ্যাপক তাকে জানান, তিনি অসুস্থ এবং নার্ভের সমস্যার কারণে মেয়েদের স্পর্শে কোনো অনুভূতি পান না, তাই তার স্ত্রী তার সঙ্গে থাকেন না; বরং ছেলেদের হাত শক্ত থাকায় তিনি ছেলেদের স্পর্শে অনুভূতি পান। এসব বলার পর তিনি রুমের দরজা–জানালা ও লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর বাদীকে বিছানায় বসতে বলেন এবং শরীর ম্যাসাজ করতে বলেন। বাদী ইতস্তত বোধ করলেও বাধ্য হয়ে ম্যাসাজ করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, পরে অধ্যাপক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। শিক্ষার্থী বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পুরুষাঙ্গ ধরে অমানবিক নির্যাতন চালান। সেদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১ টায় বাদী বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখান। পরে ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থী হলে থাকার সময় অধ্যাপক তাকে ফোন করে জানান, তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রক্টর স্যারের সাথে কথা বলেছেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিকেলের শিফটে পরীক্ষা দিতে পারবেন। সেই সঙ্গে তাকে আবার আগের ঠিকানার বাসায় যেতে বলেন। কিন্তু অধ্যাপকের সমকামী আচরণের কারণে বাদী সেখানে না গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক মোবাইলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন এবং দ্রুত ঢাকায় ফিরে এসে তার বাসায় রাত্রিযাপন করার জন্য ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।

পরে ওই শিক্ষার্থী গ্রামে ১০–১২ দিন থাকায় এবং ফোন রিসিভ না করায় অধ্যাপক অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে ঢাকায় আসার নির্দেশ দেন। বাদী ১০ অক্টোবর ঢাকায় ফেরার পর ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২ টায় অধ্যাপকের হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে তার বাসায় যান।

আরও পড়ুন: ছাত্রদের যৌন হয়রানি, ঢাবি অধ্যাপককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

এজাহারে বলা হয়, সেখানে যাওয়ার পর অধ্যাপক বাদীর ফোন না ধরা ও দেখা করতে না যাওয়ার বিষয়ে চড়–থাপ্পরসহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর রুমের দরজা–জানালা বন্ধ করে বাদীর পরিহিত শার্ট–প্যান্ট খুলতে বলেন। বাদী রাজি না হলে পুনরায় মারধর করা হয় এবং বাধ্য হয়ে তিনি পোশাক খুলতে বাধ্য হন। এরপর অধ্যাপক বাদীর স্পর্শকাতর স্থান ধরে স্পর্শ করতে থাকেন এবং নিজে মাস্টারবেশন করেন। একই সঙ্গে বাদীকে অস্বাভাবিক যৌনকর্মে রাজি করানোর চেষ্টা করেন।

‘বাদী রাজি না হলে অধ্যাপক আবার তার পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। যন্ত্রণায় বাদী বিছানায় উপুড় হয়ে পড়েন। তখন অধ্যাপক ওই শিক্ষার্থীর সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হন। বাদীর চিৎকার ও প্রতিরোধ সত্ত্বেও অধ্যাপক নির্যাতন চালিয়ে যান এবং পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ শক্ত করে টান দেন। এতে বাদী জ্ঞান হারান।’

এজহারে বলা হয়, পরদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬ টায় বাদীর জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি অণ্ডকোষে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং ফুলে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারছিলেন না। সকাল সাড়ে ৭ টায় অধ্যাপক তাকে বাসা থেকে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসে করে হলে নামিয়ে দেন এবং ঘটনা কাউকে না বলতে ভয়ভীতি দেখান।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বাদীর অণ্ডকোষের ব্যথা বাড়তে থাকে এবং ফুলে যায়। ব্যথার কারণে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারেন, অধ্যাপক এরশাদ হালিম এর আগেও একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ধরনের যৌন নির্যাতন করেছেন।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
‘অভিশাপ’ মুক্ত হলো আর্জেন্টিনা
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
এইউএসটি ও জার্মানির ইউএনইউ-ফ্লোরেস’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
আমি কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু না, ব্যাখ্যা দিলেন মীর শ…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
৩ দেশে হামলা চালাল ইরান
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
জামায়াতে যোগদান করলেন আ.লীগ নেতা
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence