ঘটনার চার বছরেও আটজনের নাগাল পায়নি পুলিশ

১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৫০ PM
নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত আটজন

নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত আটজন © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) টিএসসির কাছে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারী লাঞ্ছনায় জড়িতদের চার বছরেও খুঁজে পায়নি পুলিশ। ২০১৫ সালের মে মাসে সিটিটিভি ক্যামেরা দেখে ঘটনায় জড়িত আটজনকে চিহ্নিত করে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। আজ ১৪ এপ্রিল নারী লাঞ্ছনার এ ঘটনার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত আটজনকে না পেলে ভিডিও ফুটেজ দেখে নারী লাঞ্ছনায় জড়িত মো. কামালকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি জামিনে রয়েছেন।

এদিকে কামালের পরিবারের দাবি, ভিডিও ফুটেজে কামালকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলেও সে নারী লাঞ্ছনা করেছেন এমন কোনও প্রমাণ নেই।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখ ঢাবির টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে নারী লাঞ্ছনার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। আর এ বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে শাহবাগ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িত আটজনের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে।

প্রথমে মামলার তদন্দের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পুলিশ কাউকে অভিযুক্ত না করে আদালতে ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সে সময় অভিযোগ ওঠে, ডিবি আন্তরিকভাবে মামলার তদন্ত না করে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে।

ডিবি এর এক মাস পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুরান ঢাকার খাঁজে দেওয়ান লেনের নিজ বাসার সামনে থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. কামালকে গ্রেপ্তার করে। কামালকে গ্রেপ্তার করার পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। পরে সে বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন আদালত।

পিবিআইয়ে কর্মরত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাইনুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত শেষে কামালের বিরুদ্ধে নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পায় পিবিআই। তবে সিসিটিভি ফুটেজে নারী লাঞ্ছনায় চিহ্নিত অন্যদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নারী লাঞ্ছনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন কামাল।

পুলিশের ভিডিও ফুটেজে ২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটা সাত মিনিট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকের সামনে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও নারী লাঞ্ছনার ছবি দেখা গেলেও কামালকে দেখা যায়নি। তবে ধাক্কাধাক্কির আগে ও পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকের সামনে তাঁকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

এদিকে কামালের বড় ভাই মো. বাদল গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম দিন থেকে আমরা বলে আসছি, কামাল নারী লাঞ্ছনায় জড়িত নয়। তাকে দিয়ে নারী লাঞ্ছিত হয়েছে, এমন কোনো ছবি পুলিশের কাছেও নেই।

মামলার আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক দীপক কুমার দাস জানান, কামাল এ নিয়ে আদালতে কোনো জবানবন্দি দেননি। আবার পুলিশের কাছে তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেননি।

কামালের স্ত্রী সাহিদা বেগম দাবি করেন, কামাল তাকে ও তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে প্রতিবছরের মতো ওই দিন বর্ষবরণ উৎসবে গিয়েছিলেন। কামালের কোলে তাদের এক বছর বয়সী সন্তান ছিল। হঠাৎ প্রচণ্ড ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি হলে কামালের কোল থেকে সন্তানকে তিনি (তার স্ত্রী) কোলে নেন। আরেক সন্তানের হাত ধরে তিনি (কামালের স্ত্রী) ভিড় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কামাল তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ভিড়ের মধ্যে কামালকে খুজে পান।

কামালের স্ত্রী আরও বলেন, এ সময় কামাল একা ছিলেন। হয়তো এই সময়ের ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই সময় তিনি কোনো নারীকে লাঞ্ছনা করতে পারেন না।

আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস কমপাউন্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারের ঋণ নিয়ে ঢাবি অধ্যাপকের ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘নির্ধারিত সময়ের আগে সরকারি বাসা ছেড়েও মিডিয়া ট্রায়ালের শিক…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে সেই জামায়াত নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘শহীদের মায়ের আবেগকে অবমাননা অমানবিক ও নিন্দনীয়’
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাইয়ে শহীদ সাংবাদিক মেহেদির বাবাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপির …
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬