কান্নাজড়িত কন্ঠে মেয়ে হত্যার বিচার চাইলেন নুসরাতের বাবা

১১ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৫ AM

© সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করে প্রাণ হারিয়েছেন মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। অগ্নিসংযোগে হত্যা করা হয়েছে তাকে। নুসরাতের পিতা এ কে এম মুসা যেন অনেকটা বাকরুদ্ধ। মেয়ে হত্যার বিচার চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুসরাতের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। আর বাইরে অপেক্ষা করছিলেন বাবাে এ কে এম মুসা। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্না চেপে রাখতে পারেননি তিনি। মেয়ে হত্যারা বিচারকারীদের কঠোর শাস্তি চাইলেন তিনি। এটাই তার এখন একমাত্র চাওয়া।

নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা মুসা বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হলেই মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মেয়ে নিষ্পাপ। তাকে প্রথমে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তার প্রতিকার চেয়েছিল সে। থানায় গিয়েছিল মামলা দিতে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘নৃশংসভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি। আমি শুধু আমার মেয়ের শান্তি চাই।’ এতটুকু বলার পরে থেমে যান তিনি। এরপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের বাবা।

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া নুসরাত জাহান রাফি বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। তাকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। এর আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।

গত শনিবার সকালে ফেনীর পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সকালে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে নুসরাতকে কয়েকজন ‘মুখোশ পরা’ মেয়ে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। তারা নুসরাতকে জানায় যে, তার এক বান্ধবীকে ছাদে পেটানো হচ্ছে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নুসরাত কয়েকদিন আগে তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিল। সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে।

চিকিৎসকের সামনে পুলিশের জবানবন্দিতে নুসরাতও জানিয়েছেন যে, পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে তাকে কয়েকটি মুখোশ পরা মেয়ে ডেকে নিয়ে যায় এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি তুলে নিতে বলে। নুসরাত তাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গত ২৭শে মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে এমন অভিযোগে পুলিশের কাছে মামলা করে নুসরাতের পরিবার।

এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক সরকার
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ফেসবুকে মতপ্রকাশের জেরে তুলে নেওয়া রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের পু…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শেষ বৈঠকের ছবি দিয়ে আপ বাংলাদেশকে বিদায় জানালেন রাফে
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষি প্রযুক্তি, শিল্প উন্নয়ন ও দক্ষত…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় জামায়াতের আমিরের ক্ষোভ
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে প্রধানমন্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬