© টিডিসি ফটো
অপরাধের সঠিক বিচার হচ্ছে না বলে এমন নৃশংসতা ঘটছে জানিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল করিম বলেছেন, ‘অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাসিমুখে কথা বলছেন। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা এমন সাহস পাচ্ছে।’ আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গের সামনে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিয়াজুল করিম বলেন, দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য নতুন আইনের দাবি উঠেছে। এটি সময়ের দাবি। তবে আইন করলেই সমাধান নয়। আইনের প্রয়োগ না করতে পারলে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
এসময় নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী পুলিশ সদসদ্যদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নুসরাত থানায় গিয়েছিলেন প্রতিকার পেতে। কিন্তু পুলিশ তাকে অসম্মান করেছে বলে অভিযোগ ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও শাস্তিযোগ্য। থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের দায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, নিহত নুসরাত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন। সে সাহসী নারীদের কাছে দৃষ্টান্ত। আমরা তার কাছ বেঁচে থাকার, প্রতিবাদ করার শিক্ষা পাই। আজকে ‘নুসরাত দিবস’ ঘোষণা করার প্রয়োজন অনুভব করছেন বেলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরো পড়ুন: বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন নুসরাত
যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া নুসরাত জাহান রাফি বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। তাকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। এর আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।
গত শনিবার সকালে ফেনীর পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সকালে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে নুসরাতকে কয়েকজন ‘মুখোশ পরা’ মেয়ে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। তারা নুসরাতকে জানায় যে, তার এক বান্ধবীকে ছাদে পেটানো হচ্ছে।
নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নুসরাত কয়েকদিন আগে তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিল। সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে।
চিকিৎসকের সামনে পুলিশের জবানবন্দিতে নুসরাতও জানিয়েছেন যে, পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে তাকে কয়েকটি মুখোশ পরা মেয়ে ডেকে নিয়ে যায় এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি তুলে নিতে বলে। নুসরাত তাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গত ২৭শে মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে এমন অভিযোগে পুলিশের কাছে মামলা করে নুসরাতের পরিবার।