বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় আহত সেই ফায়ারম্যান সোহেল রানা মারা গেছেন। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। বাবা নুরুল ইসলাম, মা হালিমা খাতুন। চার ভাই এক বোনের মধ্যে সোহেল দ্বিতীয়। তিনি ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান পদে ২০১৫ সালে যোগ দেন। অবিবাহিত সোহেল থাকতেন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনেই। এর আগে সোহেলের ভগ্নিপতি জসীমউদ্দিন বলেছিলেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর মুখে পড়েন সোহেল। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন।
গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের উঁচু ল্যাডারে (মই) উঠে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ করছিলেন। এক পর্যায়ে সোহেলের শরীরে লাগানো নিরাপত্তা হুকটি মইয়ের সঙ্গে আটকে যায়। তিনি মই থেকে পিছলে পড়ে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিলেন। এ সময় তার একটি পা ল্যাডারের চাপে ভেঙে যায়। ল্যাডারের চাপে তার পেটের নাড়ি-ভুড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।