ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল

সেই রিকশাচালককে অবহেলা নয়, উল্টো সহায়তার ভিডিও ভাইরাল

২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৯ PM , আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৩:৩৬ PM
ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া

ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া © টিডিসি সম্পাদিত

গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ রিকশাচালককে রাজধানীর রামপুরার ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এক চিকিৎসকসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রিকশাচালককে সহযোগিতা করতেই তাদের চিকিৎসক ও স্টাফরা এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই দিনের ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি ভিডিও দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে রয়েছে, যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার চিত্র ধরা পড়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি আহত রিকসাচালক ইসমাইলকে হাসপাতালের গেটের সামনে ধরে রেখেছেন, এ সময় একজন দারোয়ান গেট খুলে সহযোগিতা করছেন। নীল পাঞ্জাবি পরিহিত সেই ব্যাক্তির নাম ডা. সাদি বিন শামস, এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ রিকশাচালকের শারীরিক অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। আতঙ্কে সবাইকে হাসপাতালের ভেতরে চলে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও শোনা যায়, কেউ একজন উচ্চস্বরে সবাইকে ভেতরে প্রবেশ হতে বলছেন। পরে আহত সেই রিকশাচালক মারা যায়।  

এই ঘটনার ৬ মাস পর গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ওই হাসপাতালের পাঁচজনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই পাঁচ ব্যক্তি হলেন, ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদি বিন শামস, মার্কেটিং অফিসার হাসান মিয়া, মেইনটেন্যান্স বোরহান উদ্দিন, সিকিউরিটি গার্ড ইসমাইল ও নাজিম উদ্দিন।

পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই রামপুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন রিকশাচালক ইসমাইল। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের অভিযোগ।

পুলিশের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আদালতকে বলা হয়েছে, সেদিন বেলা সাড়ে তিনটার সময় রিকশাচালক ইসমাইল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পরে ছিলেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রিকশাচালককে সহযোগিতা করতেই হাসপাতালের স্টাফসহ ও চিকিৎসক সাদি এগিয়ে যান।

এ বিষয়ে ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব ভিডিও আমাদের নয়। তবে জুলাই বিপ্লবী জোটের ফেসবুক পোস্টে দেয়া ভিডিওটি আমাদের অফিস স্টাফের করা ভিডিও।

তিনি আরও বলেন, রিকশাচালককে সহযোগিতা করতেই আমাদের স্টাফ ও চিকিৎসক এগিয়ে যান। ভিডিওতেও ডা. সাদি যে সহযোগিতা করছেন তা স্পষ্ট। এ ছাড়াও জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা অনেককে চিকিৎসা দিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সঠিক নয়। আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।

হাসপাতালের আইটি ও কাস্টমার অফিসার নূরনবী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, রিকশাচালককে গুলি করার ভিডিওটি আমার অন্য একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হয়। পরে জুুলাই বিপ্লবী জোটের ফেসবুক পোস্টে আমার করা ভিডিও তাদের ফেসবুকে পোস্ট করে। 

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৮ আগস্ট সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সিসিটিভি ফুটেজটি ডিলেট করতে বলেন এবং কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক তারা খুলে নিয়ে যায়।  

হাসপাতালের এডমিন অফিসার তৌহিদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমাদের হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়ে পড়ে থাকেন রিকশাচালক মো. ইসমাইল (৬৩)। পরে আমাদের স্টাফ, চিকিৎসক ও বাইরের কয়েকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ আবার গুলি করলে তাকে হাসপাতালের সিঁড়ির ওপর রেখেই সবাই সরে পড়েন। এমনকি ডা. সাদির পড়নে থাকা পাঞ্জাবি গুলিবিদ্ধ হয়ে তা হাসপাতালে প্রবেশ পথের দেয়ালে বুলেটটি বাধাপ্রাপ্ত হয়।  

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্টাফরা তখন হাসপাতালের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।। হঠাৎ একটা গুলি এসে রিকশাচালকের মাথায় এসে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমাদের দুইজন স্টাফ নূর নবী ও বোরহান পাঠান তাকে ওপরে নেওয়ার জন্য তুলতে যান এবং মেডিকেল অফিসার ডা. সাদি বিন শামস রোগীর অবস্থা জানার জন্য দৌড়ে যান। এরপরই দুইটা গুলির শব্দে আমাদের হাসপাতালের গেট কেঁপে উঠে। একটা গুলি মেডিকেল অফিসারের পাঞ্জাবি ভেদ করে গেটের দক্ষিণ পাশে আঘাত করে। তখন আমরা গেটের ভেতরে অবস্থান করি। আর লাশ গেটের সিঁড়িতে পড়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে লাশের ছবি উঠায় এবং নির্দেশ দেয় এই লাশ যেনো কেউ না ধরে। তখন আমাদের কী করার ছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও লাশ ভেতরে নিতে পারিনি। 

ডা. সাদি বিন শামসের পিতা মো. শামস উদ্দিন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  ও চিকিৎসকদের একটি সংগঠন আমার ছেলের বিষয়ে মামলার বিষয়টি দেখছেন। আমার ছেলের কোনো অপরাধ নেই। ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে সে রোগীকে সহযোগিতা করতেই এগিয়ে এসেছে। ’

ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
মাদারীপুরে বাস ও ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
শহীদ জিয়া: ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, আদর্শের রূপকার
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
এগিয়ে আনা হলো বিপিএল ফাইনাল
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করবে ছ…
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও বন্ধ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9