পাকিস্তানের দুই নারী ক্রিকেটার © সংগৃহীত
মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট—নাশরা সান্ধুর এমন অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। তাঁর এই বোলিং শুধু দলকে শেষ চারে তুলেই দেয়নি, গড়েছে পাকিস্তানের নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস। নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন সান্ধু।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৩ রান করে পাকিস্তান। শাওয়াল জুলফিকার ৩৫ বলে ৪৭ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন। আয়েশা জাফর করেন ১৯ বলে ২৬ এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানা ২৪ বলে অপরাজিত ২৪ রান। জবাবে সান্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের বোলাররা হংকংকে ১৯ ওভারে ৭১ রানে অলআউট করে দেন।
শাওয়াল জুলফিকার গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। তাই অভিজ্ঞ গুল ফেরোজা দলে ফেরার পরও পাকিস্তান তাঁকে ওপেনিংয়ে রাখে। ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ভালো শুরু পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। হংকংয়ের বিপক্ষে অবশ্য শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন জুলফিকার।
মুনিবা আলী ৭ বলে ৬ এবং গুল ফেরোজা ৪ বলে ৩ রান করে ফিরে গেলেও নিজের ব্যাটিংয়ে কোনো পরিবর্তন আনেননি জুলফিকার। ধীরগতির উইকেটেও দারুণ টাইমিংয়ে খেলেছেন তিনি। ছয়টি চার মেরে আয়েশা জাফরের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৩৪ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। দশম ওভারে আয়েশা ফেরার পরও ইনিংসকে এগিয়ে নেন তিনি।
তবে দ্বাদশ ওভারে জয়লিন কৌরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জুলফিকার। তাঁর বিদায়ের পর শেষ ৮.৪ ওভারে পাকিস্তান যোগ করতে পারে মাত্র ৫১ রান। কৌরও বল হাতে দারুণ ছিলেন। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি। পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ধীরগতির বলে আটকে রেখে সফল হন কৌর।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হংকংয়ের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রান তোলার চাপও ছিল। শুরুতেই ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল দুটি উইকেট তুলে নেওয়ায় তাদের ব্যাটিং আরও চাপে পড়ে। মারিকো হিলকে ফেরান ফাতিমা, আর নাতাশা মাইলসকে এলবিডব্লিউ করেন সাদিয়া।
এরপর হংকংয়ের হয়ে কিছুটা লড়াই করেন ক্যারি চ্যান। তিনিই দলের সর্বোচ্চ ৪৭ বলে ৩০ রান করেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি হংকং।
পাওয়ারপ্লের পর আক্রমণে এসে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন সান্ধু। তাঁর নিখুঁত লাইন ও লেংথের সঙ্গে ঘূর্ণি সামলাতে পারেননি হংকংয়ের ব্যাটাররা। ইয়াসমিন দাসওয়ানিকে নিজের বোলিংয়ে ক্যাচ বানানোর পর মারিনা ল্যামপ্লফকে বোল্ড করেন তিনি। চার বল পর মেরিয়াম বিবিকেও ফিরিয়ে দেন।
শেষ ওভারে সান্ধু নেন আরও তিন উইকেট। পরপর দুই বলে দুটি উইকেট নেওয়ার পর একই ওভারে আরেকটি শিকার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে কোনো মেডেন না দিয়েও মাত্র ৭ রান খরচ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ৬ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। তাঁর এই ৬/৭ বোলিং ফিগার পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন সেরা। এর আগে ওমাইমা সোহেলের ৫/১৩ ছিল পাকিস্তানের সেরা বোলিং।
হংকংকে ৭১ রানে অলআউট করে ৭২ রানের জয় পায় পাকিস্তান। গ্রুপ ‘এ’-তে তিন ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে তারা। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষ দল শ্রীলঙ্কা। দুই দল শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।