কোনো জায়গাতেই দুই ফরম্যাটে একইসঙ্গে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ © সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হোক বা বিদেশে, কোনো জায়গাতেই দুই ফরম্যাটে একইসঙ্গে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। এবার সেই অপেক্ষা ঘোচানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। চলমান সফরে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও দারুণ সূচনা করেছিল টাইগাররা। শেষ ম্যাচে জয় পেলেই গড়া যেত নতুন ইতিহাস।
কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ধস নামে বাংলাদেশের। বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১৫ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা; ১৪ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। জবাবে খুব সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ২০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। ফলে সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়, আর ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালোই হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। শেখ মেহেদীর করা প্রথম ওভারে ৯ রান নেয় দলটি। তবে দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম।
ওভারের দ্বিতীয় বলেই শর্ট ডেলিভারিতে কাটেন ক্লার্ককে ফিরিয়ে দেন; ২ বলে ১ রান করা ক্লার্ক উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেন। একই ওভারের শেষ বলেও ডেন ক্লিভারকে আউট করেন শরীফুল, সেখানেও ক্যাচ নেন লিটন।
এক ওভার বিরতির পর আবার আঘাত হানেন শরীফুল। টিম রবিনসনকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি; ১৪ বলে ২৩ রান করেছিলেন এই ওপেনার। নিজের প্রথম ৭ বলেই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে মাত্র ২ ওভারে ৪ রান দেন এই বাঁহাতি পেসার।
এরপর শেখ মেহেদী বোল্ড করেন নিক কেলিকে (১)। পঞ্চম ওভারে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
তবে শুরুতে চাপে পড়লেও কিছুটা সময় নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সফরকারীরা। আর বাকি পথটাও অনায়াসেই পাড়ি দেয় নিউজিল্যান্ড। জ্যাকবস ও ফক্সক্রফটের ৪০ বলে গড়া ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় তারা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছেন জ্যাকবস। ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম নেন ৩টি উইকেট।
এর আগে, ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টির বাধায় ১০২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে কেবল হৃদয়, লিটন ও সাইফ দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। এর মধ্যে হৃদয় করেন সর্বোচ্চ ৩৩ রান, লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২৬। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ক্লার্কসন নেন ৩টি উইকেট।