বাংলাদেশ ক্রিকেট দল © সৌজন্যে প্রাপ্ত
সাম্প্রতিক সময়ে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট। একসময় ওয়ানডেতে দাপুটে পারফরম্যান্সে বড় বড় দলকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেসব কেবলই স্মৃতি। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়েও শঙ্কা জাগছে।
এর মধ্যেই আলোচনায় মাঠের ভেতর-বাইরের নানা ইস্যু। জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরেও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিদেশে যাওয়া-আসা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা গুঞ্জন।
এর বাইরে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত কমিটি গঠন, বোর্ডে সম্ভাব্য পরিবর্তনের শঙ্কা এবং দেশের প্রধান ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা-ও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সবমিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে প্রশাসনিক টানাপোড়েন—বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন নানা প্রশ্ন ও প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে। এমন ৫ বড় প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
২০২৭ বিশ্বকাপ ঘিরে জটিল ‘অঙ্ক’
একটা সময় ওয়ানডে ফরম্যাটে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ। দাপুটে পারফরম্যান্সে বাঘা বাঘা সব দলকেই নাস্তানাবুদ করত টাইগাররা। তবে সোনালি সেই যুগ এখন আর নেই। কালেভদ্রে জয়ের দেখা পাচ্ছে টাইগাররা। লিটন-তামিমদের এমন ‘শিশুসুলভ’ পারফরম্যান্স চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে নিজেদের অন্যতম প্রিয় ফরম্যাটে এখন স্মরণকালের বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজেরা। পরিস্থিতি এমন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি বাংলাদেশের খেলা নিয়েও শঙ্কা জেগেছে।
তবে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। এই জয়ে দ্য গ্রিন ম্যানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জেতার নজিরও গড়ে নেয় স্বাগতিকরা। সবশেষ ২০১৫ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে বসবে আসন্ন বৈশ্বিক মহারণ। সীমিত ওভারের এই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে পথটা কি আসলেই সহজ? যদিও স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি খেলবে দুটি দল। তবে স্বাগতিকদের কেউ শীর্ষ আটে থাকলে সুযোগ পেতে পারে নবম বা দশম দল। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে আটের মধ্যে থাকলেও নেই জিম্বাবুয়ে। ফলে, বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ কিছুটা জটিলই।
এতদিন ৭৬ রেটিং পয়েন্টে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানকে হারিয়ে আপাতত কাঙ্ক্ষিত সেই অবস্থানে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বর্তমানে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট বাংলাদেশের। অন্যদিকে ৭৭ রেটিং নিয়ে তালিকার দশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এদিকে বাংলাদেশের সামনে এখনও ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ। যেখানে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে লাল-সবুজেরা। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সফরও থাকছে। সবমিলিয়ে কাগজে-কলমে কঠিন লড়াই, কিন্তু সুযোগও এখানেই।
এই চ্যালেঞ্জে সফল হতে অবশ্যই ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে অন্তত একটি করে জয়ও র্যাঙ্কিংয়ে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একইসঙ্গে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজেও ভুলের সুযোগ নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধারাবাহিকতা। প্রতিটি ম্যাচকে ফাইনাল ভেবে খেলতে হবে। পরিকল্পিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সই বাংলাদেশকে ফের বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সবমিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে আবারও বাঘের গর্জন দেখার অপেক্ষায় লাল-সবুজের সমর্থকেরা।
সাকিব আল হাসানের ‘প্রত্যাবর্তন’
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে বেশ ইতিবাচক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবুও তার দেশে ফেরা হচ্ছে না। ফলে, ক্রমশই বাড়ছে নানা প্রশ্ন। এর পেছনে জটিলতা কোথায়, তা-ও খুঁজছেন সাকিব-ভক্তরা। তবে বিসিবির এই ইতিবাচক অবস্থানের পরও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।
মূলত গেল জানুয়ারিতেই সাকিবের জাতীয় দলে ফেরাকে ঘিরে আলোচনা জোরালো হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে এই আলোচনা। মাঝে কিছুদিন স্তিমিত থাকলেও পাকিস্তান সিরিজ ঘিরে আবারও বাসা বেঁধেছিল সাবেক এই অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন। তবে তবে সাকিব, সরকার, বোর্ড সবাই প্রস্তুত থাকলেও বারবার সামনে উঠে আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশসেরা এই ক্রিকেটারের নামে যে মামলা হয়েছিল, তা নিষ্পত্তি কীভাবে হবে সেই প্রসঙ্গ!

যদিও সেই মামলার জটিলতা কাটাতে খোদ বিসিবিই উদ্যোগ নেয়। এজন্য সচিবালয়ে সাকিবের মামলার ফাইলও পাঠায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি। সাকিবের প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে সরকারের পক্ষ থেকেও একাধিকবার ইতিবাচক মন্তব্য উঠে আসে গণমাধ্যমেও। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাকিব বা মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে আনতে সরকার থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে জানিয়েছিলেন আমিনুল হক।
এদিকে বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সাকিব ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে বিসিবি। বিষয়টিকে ক্রিকেট বোর্ডের একরকম ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অবশেষে নিজেই সেসব বিষয়ে মুখ খুলেছেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এই সংসদ সদস্য। তার কথা, ‘আইনি বিষয়গুলো মিটে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসব।’
বিসিবি সভাপতির ফেরা-না ফেরা
প্রথমত, বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার আগপর্যন্ত বাংলাদেশে তার খুব একটা বিচরণ ছিল না। মূলত দেশের ক্রিকেটকে নিজেকে উজাড় করে দিতেই হোম অব ক্রিকেটে শর্ট ইনিংস খেলার পরিকল্পনা ছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। তবে মাঝে সিদ্ধান্ত পাল্টে ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট টেস্টকেই বেছে নেন, এই ফরম্যাটে লাল-সবুজের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান।
তবে বুলবুলের অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আর গুঞ্জনের যেন অন্ত নেই। গত তিন-চার মাসে যতবার অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন, প্রায় প্রতিবারই তার যাওয়া এবং দেশে ফেরা নিয়ে কোনো না কোনো নেতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রিকেটাঙ্গনের ভেতর-বাইরেও নানা ধরনের কথা শোনা গেছে।

মাঝখানে তো রটেই গিয়েছিল, বুলবুল নাকি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে চলে গেছেন এবং আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। সেই গুজব মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং উদ্বেগ। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে থাকেন।
তবে সেই জল্পনা-কল্পনা বেশি দূর গড়াতে পারেনি। পরদিন সকালেই সবাইকে চমকে দিয়ে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির হন। হঠাৎ তার উপস্থিতি অনেকেরই কল্পনাকে ভেঙে দেয় এবং তখনই বোঝা যায়, বিষয়টি আসলে গুজবের বেশি কিছু নয়।
এবারও তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া এবং দেশে ফেরা নিয়ে আবারও নানা ধরনের সংশয় ও আলোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়ত এবারও তিনি ফিরবেন না বা তার ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল যে তিনি ঈদের পরই দেশে ফিরবেন। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঈদের পর আগামী ২৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরবেন বিসিবি সভাপতি। তার এই ফেরাকে ঘিরে এখন আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
তদন্ত কমিটি, বোর্ডে পরিবর্তনের শঙ্কা
বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ; নতুন কিছুই নয়। সম্প্রতি এ নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এই কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটির পরপরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেবেন তারা।
তবে এই তদন্তের ফল কী হবে, তা ক্রীড়াঙ্গনে এখন ‘হট কেক’। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল থাকবে নাকি তদন্তের ভিত্তিতে তা ভেঙে দেওয়া হবে, ক্রিকেটাঙ্গনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। একইসঙ্গে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সুপারিশ কী হতে পারে, তা নিয়েও নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, অনিয়ম এবং সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেন ঢাকার প্রায় ৫০টি ক্লাবের প্রতিনিধি এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর-বঞ্চিত কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ক্রীড়া পরিষদ।
এদিকে ইতোমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। ক্রীড়াঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিসিবি নির্বাচন ঘিরে ওঠা বিতর্কের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পথ তৈরি হতে পারে। যদিও এখন ক্রিকেটপাড়ায় ঘুরে ফিরে সবার মনেই একটি ধারণা দৃঢ় হয়ে গেছে, এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই আসলে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
ঈদের পর আলোর মুখ দেখবে প্রিমিয়ার লিগ?
সাধারণত মার্চ থেকে এপ্রিল, কখনো-বা মে মাস পর্যন্ত গড়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এর আগে, দলবদলের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ক্লাব বেছে নেন ক্রিকেটাররা। পুরো মৌসুম খেলার পর ক্লাবগুলো থেকে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিকও পেয়ে থাকেন, যা দিয়ে বছরজুড়ে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন।
সহজ হিসেবে, এই লিগই ক্রিকেটারদের কাছে যেন ‘আয়ের একমাত্র সমাধান’। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেও লিগ আয়োজন নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই। যদিও নিয়ম অনুসারে, গেল ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি দলবদল হওয়ার কথা ছিল। আর মার্চের শুরুতেই অর্থাৎ রোজার মধ্যেই লিগ মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই ঘটেনি।
এদিকে লিগ আয়োজক সংস্থা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসও (সিসিডিএম) কার্যত নিশ্চুপ। কারণ, সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই বললেই চলে। মূলত বিসিবি নির্বাচনে অস্বচ্ছতা, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং সরকারি হস্তক্ষেপ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করেছিল ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্লাব।
অন্যদিকে রাজধানীর অধিকাংশ ক্লাবই বর্তমান বোর্ডের অধীনে লিগ খেলতে রাজি নয়। জানা গেছে, ১২ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বা তিনটি ক্লাব ছাড়া বাকিরা সবাই বর্তমান বোর্ডের অধীনে খেলতে অনাগ্রহী। সিসিডিএম ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। সহজ করে বললে, মোহামেডান, আবাহনীসহ বড় ক্লাবগুলোও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যে লিগ থেকে শতাধিক ক্রিকেটারের সারা বছরের সংসার চলে, সেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়ে আদৌ কি বিসিবির কোনো আন্তরিকতা আছে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
অন্যদিকে সিসিডিএম সূত্র বলছে, লিগ আয়োজনে প্রস্তুত তারা। কিন্তু পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নয়। আর প্রথম বিভাগ বা দ্বিতীয় বিভাগের মতো করে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজিত হতে পারে না।
সব মিলিয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর সেই অনিশ্চয়তার বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছেন, দেশের শতাধিক পেশাদার ক্রিকেটার। অবশ্য, ঈদের ছুটির পরও এই লিগ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা আছে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দিনশেষে ভালো কিছুরই প্রত্যাশায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গন।