ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ © সংগৃহীত
ইনিংসের ৮ দশমিক ৪ ওভার পর্যন্ত ভারতের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৮৮। সেই ঝোড়ো সূচনার মূল নায়ক ছিলেন ইষাণ কিষাণ, মাত্র ৪০ বলে করেন ৭৭ রান। তার অসাধারণ ইনিংসেই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে ম্যাচে দাপট দেখানোর ইঙ্গিত দেয় ভারত।
তবে ম্যাচের শেষভাগে চিত্র বদলে যায়। পাকিস্তান শেষ ১০ ওভারে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিং করে রান তোলার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে শক্ত ভিত পেয়েও আর দুই শতকের দেখা পায়নি ম্যান ইন ব্লু'রা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর আর প্রেমাডাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় ভারত। দলের হয়ে ৪০ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন ওপেনার ইষাণ কিষাণ।
ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে নিজের ওপর আস্থা রেখে নতুন বল হাতে প্রথম ওভার করতে আসেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমানই। আর শুরুতেই আঘাত, ওপেনার অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে ফেরান সালমান।
দ্বিতীয় উইকেটে তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন আরেক ওপেনার ইষাণ কিষাণ। এরপর থেকেই পাল্টা আক্রমণে নামেন তিনি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৭ বলেই পূর্ণ করেন ফিফটি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জেগেছিল, তবে সেই স্বপ্ন ভাঙেন সাইম আইয়ুব। শেষেমেশ ৪০ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে থামেন কিষাণ।
এই ওপেনার থামলেও চলতে থাকে ভারতের দাপট। কিন্তু ইনিংসের ১৫তম ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সাইম আইয়ুব। দুর্দান্ত লাইন-লেংথে বল করে ব্যাটারদের একপ্রকার চাপে ফেলেন। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরান তিলক ভার্মাকে। ঠিক পরের বলেই আরও বড় আঘাত; আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন হার্দিক পান্ডিয়া, আর সহজ ক্যাচে পরিণত হয় সেটি। পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেন সাইম।
ক্রিজে তখন নতুন ব্যাটসম্যান শিবম দুবে। সাইমের চতুর্থ বলটিও ছিল সত্যিই চোখধাঁধানো। নিখুঁত গতি ও মুভমেন্টে ব্যাটসম্যানকে পুরোপুরি বিট করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন ওঠে। মাঠের আম্পায়ার বিষয়টি তৃতীয় আম্পায়ারের হাতে ছেড়ে দেন। রিপ্লে দেখে শেষ পর্যন্ত ‘নট আউট’ সিদ্ধান্ত আসে। পুরো ওভারজুড়ে চাপ ধরে রেখে মাত্র ২ রান খরচায় ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন সাইম।
এদিন দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকলেও ব্যাট হাতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না অধিনায়ক সূর্যকুমার। শেষ পর্যন্ত উসমান তারিকের বলে আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন সাইম আইয়ুব।