অভিভাবক সমাবেশ পন্ড করে দেয় স্থানীয় সংঘবদ্ধ একদল যুবক © টিডিসি ছবি
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ইসলামী ব্যাংক দাখিল মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসময় নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করা হয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের হেনস্থা ও গালমন্দ করে অভিভাবক সমাবেশ পন্ড করে দেয় স্থানীয় সংঘবদ্ধ একদল যুবক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত বুধবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার আবদুল্লাহ মিয়ার হাট পশ্চিম রাজুরগাঁও সেন্টার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত স্থানীয় ১০ জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে কবিরহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ শুরু হলে হঠাৎ করে লুঙ্গি পরিহিত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সমাবেশ কক্ষে ঢুকে উপস্থিত অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সামনে আগত অতিথিদের গালমন্দ করে সমাবেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে স্থানীয় সন্ত্রাসী রামদা মিশু এবং মামুনের নেতৃত্ব সৌরভ,তাজু,মিজান,দীপু আলা উদ্দীন,শাহিন,কামাল,জসিমসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের একটি গ্রুপ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে আসলে নিরাপত্তা প্রহরী বাধা দিলে সন্ত্রাসী মিশু ওরফে রামদা মিশু এবং মামুন নিরাপত্তা প্রহরীকে পিটিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ইসলামী ব্যাংক নোয়াখালী জোন প্রধান, ইসলামী ব্যাংক মাইজদী কোর্ট শাখা প্রধান এবং সোনাপুর শাখা প্রধানকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হলে উনারা হল রুম থেকে বেরিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন। ক্রমশ পুরো মাদ্রাসায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের দিক-বিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। একজন অভিভাবক ঘটনা মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তাকে গালমন্দ এবং প্রকাশ্য হুমকি দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কথা ভেবে অভিভাবক সমাবেশ স্থগিত করে।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মোঃ ছালেহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক সার্ভিস সেন্টারের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক দাখিল মাদ্রাসার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে জায়গাটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস ধরেই এই সন্ত্রাসী গ্রুপ মাদ্রাসার পুকুর এবং জায়গা দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মিশু এবং মামুনের বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে জেলে ভাড়া করে মাদ্রাসার পুকুরে মাছ চুরি করার অভিযোগও রয়েছে। এঘটনার নেতৃত্ব দানকারী মিশুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে।