সেন্টমার্টিন দ্বীপ © টিডিসি ফটো
টানা নয় মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পেলেও সেখানে রাত যাপন করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) কক্সবাজারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটকেরা কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে। তবে পর্যটকেরা দ্বীপে রাত কাটাতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনায় কিছু বলা হয়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগের প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার কক্সবাজারে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জাহাজমালিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক এবং ট্যুর অপারেটররা উপস্থিত থাকবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে রাত যাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের প্রত্যাশা, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে আগের বিধিনিষেধ বহাল থাকলে নভেম্বর মাসে সকালে দ্বীপে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে হতে পারে পর্যটকদের। সে ক্ষেত্রে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রাত যাপনের সুযোগ মিলতে পারে।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, রোববারের প্রজ্ঞাপনে রাতযাপনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুরো পর্যটন মৌসুমে রাতযাপনের সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা হতাশ হবেন। তাদের প্রত্যাশা, পুরো মৌসুমেই দ্বীপে রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হবে।
জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলামও আশা করছেন, পর্যটকেরা পুরো মৌসুমে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। সে অনুযায়ী জাহাজ চলাচল ও টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বছর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন পথে নয়টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এবার জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্তত নভেম্বর মাসে পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দ্বীপটির পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, নতুন নির্দেশনায় রাতযাপনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সব মিলিয়ে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যটকেরা দ্বীপে রাত থাকতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করছে বুধবারের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর। ওই বৈঠকেই রাতযাপনের অনুমতি ও সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আসতে পারে।