১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পারবেন পর্যটকরা © সংগৃহীত
সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি মিললেও রাত্রীযাপনের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে পর্যটক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিল অনিশ্চয়তা। এবার সেই সংশয় অনেকটাই কাটল। পর্যটকেরা চাইলে দ্বীপটিতে রাত্রীযাপন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বলেন, ‘সাড়ে চার মাস পুরোটাই খোলা থাকবে। রাত্রীযাপন নিয়ে আমরা আলাদাভাবে কিছু বলছি না। পুরো সময় পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে। পর্যটকেরা চাইলে রাত্রীযাপন করতে পারবেন, সেটি তাঁদের সিদ্ধান্ত।’
আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ চালু হচ্ছে। এ খবরে দ্বীপজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া। পর্যটননির্ভর এ দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হলে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে দ্বীপে। সচল হবে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসা। বাড়বে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকেরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এ সময়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। রবিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আগামী মাস থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করার কথা জানালেও রাত্রীযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। এখন দ্বীপে রাত্রীযাপনে বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে। এতে দ্বীপবাসী আনন্দিত।’
সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের আগমনকে সামনে রেখে দ্বীপের সব পেশার মানুষ কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবাই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে ব্যস্ত। এবার পুরো সময় রাত্রীযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসু—উভয়ের জন্যই তা ভালো খবর। কক্সবাজার থেকে আট-নয় ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের ভ্রমণের কষ্টও কমবে। তাঁদের দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হবে না।’
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর্যটক যাতায়াত সীমিত থাকায় দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। এবার ভ্রমণের পাশাপাশি রাত্রীযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটকেরা বেশি সময় দ্বীপে অবস্থান করতে পারবেন। এতে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌপরিবহন ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় গতি ফিরবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।