তালের শাঁস © টিডিসি সম্পাদিত
গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরমে শরীর সতেজ রাখতে সাধারণ মানুষের কাছে কচি তালের শাঁসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এর ব্যতিক্রম নয় নেত্রকোণা। গরমে যখন হাঁসফাঁস তখন ছোট-বড় সবার পছন্দের শীর্ষে তালের শাঁস। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরের বিভিন্ন হাটবাজারে তালের শাঁস কিনতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
ছিলিমপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম নামের এক বিক্রেতা বলেন, `আমি সারা বছরই বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। গ্রীষ্ম মৌসুমে বিভিন্ন ফল বিক্রি করি। পাশাপাশি প্রতি বছরই তালের শাঁস বিক্রি করি। বর্তমানে তাল গাছ কমে যাওয়ায় এটা সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।'
তিনি আরো বলেন, `আগে একটি তাল ৫ টাকা করে বিক্রি করতাম কিন্তু বর্তমানে খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি পিস তাল ১০ টাকায় বিক্রি করছি। সব মানুষেরই তালের শাঁস পছন্দ। সাধারণত ছোট ও মাঝারি সাইজের তাল ভালো চলে।'
উপজেলার সাহিতপুর বাজারের তালের শাঁস বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, ‘বর্তমানে গরমে তালের শাঁসের চাহিদা অনেক বেড়েছে।তালের শাঁসের সংগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমরা অনেক সময় ক্রেতাদের মন সন্তুষ্ট করতে পারিনা।
তাছাড়া বিভিন্ন বাজারে ভ্যানগাড়িতে করেও ভাসমান বিক্রেতারা তালের শাঁস বিক্রি করে থাকেন।’
উপস্থিত এক ক্রেতা মিজানুল করিম বলেন, ‘বেশি গরমে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়ে যায়।আগে প্রতি পিসের দাম ছিল ৫ টাকা আর এখন ১০ টাকা।তারপরেও গরমে তালের শাঁস খেতে ভালই লাগে।পরিবারের সদস্যদের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’
এবিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আলী মুহাম্মদ ইমাম হোসেইন বলেন, ‘তাপমাত্রার কারণে শুষ্ক ত্বক, চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে এটি। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায় তাও পূরণ করতে সাহায্য করে তালের শাঁস।’
তিনি আরও বলেন, ‘তালের শাঁসে রয়েছে আয়োডিন, মিনারেলস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ফসফরাস। বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরা তালের শাঁস নানা রোগের পথ্য হিসাবেও কাজ করে।’