সরকারের গণবিজ্ঞপ্তি জারি
সরকারের গণবিজ্ঞপ্তি জারি © টিডিসি সম্পাদিত
আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা মেনে চলতে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডের কারণে নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। অনুমতি থাকলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারকাল ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, বিতরণ, বাজারজাত, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় কোনো ধরনের হর্ন বাজানো যাবে না। একই সঙ্গে পটকা, আতশবাজি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন অন্যান্য কার্যক্রমও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ট্র্যাফিক সার্জেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে এবং শাস্তি দিতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দদূষণ মানব স্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সরকার জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। বিধিমালায় এলাকা ভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৭৫ ডেসিবল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।