মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭ PM
টিডিসি সম্পাদিত

টিডিসি সম্পাদিত © টিডিসি

দেশে গত মার্চ মাসে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। একই সময়ে ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট নিহতদের মধ্যে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮.৩৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮.০২ শতাংশ। এ ছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন (১৪.৮৪%) এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী ৬৬ জন (১২.৪০%)।

যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭.৬৬%), প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৪৬ জন (৮.৬৪%), বাসে ৪৫ জন (৮.৪৫%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরে ২৮ জন (৫.২৬%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনে ২৩ জন (৪.৩২%) ও বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২.৪৪%)।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, ৪৫.৮৩ শতাংশ দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে, ২৯.৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২.১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০.৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে ও ১.৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪০.১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২৮.৮১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৪.৯৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ১৪.২৩ শতাংশ পেছন থেকে আঘাতে ও ১.৯০ শতাংশ অন্যান্য কারণে।

দুর্ঘটনায় মোট ১০০৮টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ২৩.২৬ শতাংশ সকালে, ২২.৯২ শতাংশ দুপুরে, ২১ শতাংশ রাতে, ১৭ শতাংশ বিকেলে, ৯.৩৮ শতাংশ সন্ধ্যায় ও ৬.৪২ শতাংশ ভোরে ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৮ জন এবং আহত ৬৯ জন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে শিক্ষার্থী ৭৯ জন, শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১১.২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, যানবাহনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরি এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে।

 

এরিয়া ইনচার্জ ও হিসাবরক্ষক নেবে আকিজ গ্রুপ, সরাসরি ভাইভা অঞ…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
‘ফেল করা শিক্ষার্থীরা দুই বারের বেশি সুযোগ পাবেন না’
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
ভ্রাম্যমাণ আদালতের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ, খাবার গেল এত…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
সাকিবকে লম্বা সময়ের জন্য পেতে আশাবাদী প্রধান নির্বাচক
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথী
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close