নারী দিবসে নারী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১৪ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © ফাইল ফটো

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীরা শুধু পরিবার ও সমাজের অংশ নয়, তারা দেশের উন্নয়ন ও সমাজের মূল চালিকাশক্তি। নারী শিক্ষার্থীরা সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার প্রত্যাশা করেন। তারা চায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ। নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।

নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা

প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং নারীর অধিকার, সংগ্রাম এবং সাফল্যের স্মারক। সমাজে এখনও অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতা, বৈষম্য ও অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট, বাস, ট্রেন এমনকি হাসপাতালের মতো সেবামূলক কর্মক্ষেত্রেও নারীরা ঝুঁকির মুখে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নারী নয়, তিন বছরের কন্যা শিশুও কখনো কখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

নারীকে অনেক সময় হরিণের সাথে তুলনা করা হয়। হরিণ যেমন নিজের মাংসের জন্য নিজের শত্রু, তেমনি একজন নারীও নারী হয়ে জন্মানোর কারণে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। আইনের শাসন অনেক ক্ষেত্রেই অন্যায়ের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। যুগ যুগ ধরে কাগজে-কলমে নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব জীবনে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও অসম্পূর্ণ।
পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ এবং অফিস-আদালতসহ সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রতিটি নারী পুরুষের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সমানভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

— মাহমুদা রানি
বি.এ (অনার্স), এম.এ. (বাংলা সাহিত্য)

ইসলামের আলোকে নারীর মর্যাদা

ইসলামে নারীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। তারা মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মানিত। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে।” ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নারীরা শিক্ষা গ্রহণ, সম্পত্তির অধিকার এবং সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারেন। একজন মায়ের মর্যাদা এত বেশি যে জান্নাতকে মায়ের পায়ের নিচে বলা হয়েছে।

একজন নারী যেমন মমতাময়ী মা, তেমনি তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মী, শিক্ষিকা, নেত্রী বা সৃষ্টিশীল মানুষও হতে পারেন। প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও নারীরা পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নারী দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে নারীদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা হলে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

— তানজিয়া আক্তার
শিক্ষার্থী


নিরাপদ পৃথিবীর প্রত্যাশা

“কোনো কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়াছে শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।”

নারী জাতি মায়ের জাতি। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মে নারীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক নারী এখনও নির্মমতার শিকার। আজকের পৃথিবী অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জন্য অনিরাপদ। একদিকে আমরা নারীর অধিকার নিয়ে বড় বক্তৃতা দেই, অন্যদিকে নারীরা ধর্ষণ বা সহিংসতার শিকার হলে সমাজ প্রায়শই নীরব থাকে। নারীদের সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচারও অনেক সময় কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায় না।

নারী দিবসে খুব বড় কিছু প্রত্যাশা নয়। শুধু চাই আমরা সবাই মিলে এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলি, যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। যেখানে আছিয়া, ইরা বা অন্য কোনো নিষ্পাপ ফুল আর সহিংসতার শিকার হয়ে অকালে ঝরে না পড়ে।

— ছাবিকোন নাহার ইতিমণি
শিক্ষার্থী


নারীদের প্রত্যাশা: সম্মান, সমতা ও নিরাপত্তা

নারীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই তারা ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা করে। তারা চায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং একজন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক।

নারীরা পরিবারে স্নেহ, বোঝাপড়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। একজন নারী তার স্বপ্ন পূরণের জন্য সমান সুযোগ চায়, যাতে পড়াশোনা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে এগিয়ে যেতে পারে। সমাজে বৈষম্য ও অবহেলা নয়, বরং সমতা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। তারা চায় নিরাপদ পরিবেশ, যেখানে ভয় ছাড়া চলাফেরা করতে পারবে।

একজন নারী পরিবারকে ভালো রাখতে নিজের অনেক ইচ্ছা ত্যাগ করে। তাই তারা পরিবার থেকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার আশা রাখে। নারীরা চান সমাজ তাদের দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী ও সক্ষম মানুষ হিসেবে দেখুক।

— আয়েশা পারভীন
বাংলা বিভাগ, শিক্ষার্থী

নারী শক্তির স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস মনে করিয়ে দেয়—নারী শুধু মা, বোন বা কন্যা নয়; তারা সমাজের শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা। বর্তমান সময়ে নারীরা শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডাক্তার, পাইলটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা তাদের মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

নারীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করে, তাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়িয়ে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি—নারীর মর্যাদা, অধিকার ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে সচেতন থাকব।

— জান্নাতুন নাহার জুথি
শিক্ষার্থী

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
এআই দিয়ে ভবনের কাঠামোগত শক্তি নির্ণয়ে ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতা, য…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
‘ব্যক্তিত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্যে নারাজ সাদিক, রাশেদ বললে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জেলা ও মহানগরের নির্বাচিত নতুন আমিরের নাম ঘোষণা করল জামায়াত…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950