বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ © সংগৃহীত
কর্মচারীদের পদবি ও বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ। আজ রবিবার সচিবালয়ে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
এ সময় সংগঠনের নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের ৮ম পে-কমিশন থেকে সুপারিশ মালায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পদবি ও বেতনবৈষম্য নিরসনের সুপারিশ হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
লিখিতে প্রস্তাবনায় তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সচিবালয়সহ সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থায় সংস্থাপন দ্বারা সমকার্যপরিধির পদগুলো একই শিরোনাম ও একই বেতনগ্রেডভুক্ত ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (সাবেক সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) ১৯৯৫ সালে শুধুমাত্র সচিবালয়ের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, শাখা সহকারী, বাজেট পরিক্ষক শিরোনাম পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয় এবং সাঁটলিপিকার পদগুলোর শিরোনাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পাবলিক সার্ভিস কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন একই পদগুলোর পদবি ও বেতনগ্রেড পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা/ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। কিন্তু বাহিরের দপ্তরগুলোতে ৩০ বছর যাবত পূর্ব পদেই রয়ে গেছে।
এই বৈষম্য নিরসনে সংগঠনটি ২০০৯ সাল থেকে আন্দোলন করছে জানিয়ে আরও বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের সংস্থাপন ক্যাটাগরীর প্রায় ৩ লক্ষ কর্মচারী পদবি ও বেতনবৈষম্যের স্বীকার। কর্মচারী সংগঠনের দাবী দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ বছরে দফায় দফায় সভা করা হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অজ্ঞাত কারণে পদবি ও বেতনবৈষম্যটি নিরসন না করে ঝুলিয়ে রেখেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী ও সম কার্যপরিধির প্রায় ১৪ হাজার পদ আছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ বিষয়ে একাধিক কমিটি করা হলেও অদ্যাবধি বৈষম্যট নিরসন করা হয়নি।
পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা সার্বিক বিষয় কমিশনে তুলে ধরেছি। এই বৈষম্য নিরসনে কমিশনের স্পষ্ট সুপারিশ আশা করছি। কমিশনও মনে করে সমস্যাটার সমাধান হওয়া জরুরি।