সংসদে নারীদের ১০০ আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি নারীমুক্তি কেন্দ্রের

২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৪৮ PM , আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪৭ PM
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র © সংগৃহীত

সংসদে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দাবিতে নারীদের জন্য ১০০ আসন বরাদ্দ করে সরাসরি নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের মতে, সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত অর্থে সংসদে নারীর সমান অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুস্মিতা রায় সুপ্তি।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা নিত্রা, আইনজীবী আবেদা গুলরুখ, স্থপতি ফারহানা শারমিন ইমু, অটোচালক সাহিদা আক্তার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সুলতানা,মিরনজিল্লা হরিজন কলোনী ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য পূজা রানী।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আইনের ফাঁকফোঁকরের মাধ্যমে নারীরা অনেক বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিলেই ধর্ষণের শাস্তি মাফ হয়ে যাবে, এ মানসিকতা সমাজে আছে। বিচারক বা আইনজীবীদের মধ্যেও এ মনোভাব আছে। বিচারকদের সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। ধর্ষণ ও অন্য অপরাধের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, ধর্ষণ করে ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। অপমান, অবজ্ঞার মাধ্যমে নারীকে পিছিয়ে রাখে যাতে ক্ষমতার লড়াইয়ে নারী পিছিয়ে পরে। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলে ধর্ষণের পর খুন বেড়ে যাবে। নারীর সুরক্ষা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

সামিনা লুৎফা বলেন, ‘নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখার অপতৎপরতা চলছে।  যারা এটা চায় এর পেছনে তাদের স্বার্থ আছে। সম্পত্তিতে নারীর অধিকার দিতে চায় না। নারীর ভালো করার নামে, ভালোবাসার নামে তার অধিকার হরণ করা হয়। নারীর কষ্টগুলো এ সমাজে পুরুষরা পুরোপুরি বুঝবে না। নারী তার এই কষ্টের কথা এলাকায় বলবে সেই প্রতিনিধি কোথায়? এই নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জান বাজি রেখে লড়েছে, পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। পুলিশের হাত থেকে ছেলেদের রক্ষা করেছে। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের পর নারীদের ওপর হয়রানি বেড়েছে। পথে ঘাটে যেমন তেমনি অনলাইনে। অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে নারী হাজির হয়েছিল কর্তাসত্ত্বা নিয়ে। এটাকেই আজকে আক্রমণ করে থামিয়ে দিতে চায়। এ অবস্থা থেকে নারীদের বের করতে হলে নারীকে প্রবলভাবে রাজনীতির মাঠে হাজির থাকতে হবে। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ঐকমত্য কমিশনের কাছে আহ্বান জানাই আগামী নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ও এরপরের নির্বাচনে ৫০ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে।’

আরও পড়ুন: এক বছর ধরে বন্ধ ৫ হাজার শিক্ষকের বেতন, নেপথ্যে কী?

স্থপতি ফারহানা শারমিন ইমু বলেন, ‘গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। রাজপথে অভ্যুত্থানের সময় লড়েছে। শুধু রাজপথে লড়াই নয়, অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শ্রুশ্রূষা করার ক্ষেত্রেও নারীদের ভূমিকা অনেক। অভ্যুত্থানের সময় অনেক হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যেত না। অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এ কাজ করতে হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা অর্গানিকভাবে সংগঠিত হয়েছি। এ রকম স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যতগুলো হয়েছে, সেখানে যারা কাজ করছে তাদের ৯৫ শতাংশই নারী।’

আইনজীবী আবেদা গুলরুখ  বলেন, ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয় ইয়াসমিনকে হত্যার প্রতিবাদে ধর্ষণবিরোধী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তাকে কেন্দ্র করে। ধর্ষণ আমাদের সমাজে এখনো মারাত্মক ব্যাধি। এটা এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।  ফলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। বিগত শতাব্দীর শেষের দশকে আমরা যখন আন্দোলন করেছি এর প্রতিবাদে তখন আমাদের, অর্থাৎ নারীদেরই দোষারোপ করা হয়েছে, ভ্রষ্টা বলে, পতিতা বলে অপবাদ দেয়া হয়েছে। এখনও যারা লড়াই করছে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। বরং অন্যদিক থেকে এটা আরও বেড়েছে। অনলাইনে বডি শেমিং করা হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে থেমে গেলে চলবে না, এই লড়াই জারি রাখতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সীমা দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ ভাগ নারী। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। কিন্তু নীতি নির্ধারণী পরিসরে নারীর কণ্ঠস্বরকে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যভাবে বলতে গেলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে, সেটা রাষ্ট্র কিংবা পরিবার যেখানেই হউক না কেন। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাক্ষা ছিল নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী পুরুষের সমমর্যাদা-সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রকেই নারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের সহায়তা করতে হবে, যৌন নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দরিদ্র, প্রান্তিক নারীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সংগ্রামী ও মহীয়সী নারীদের জীবন সংগ্রাম শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের মর্যাদার এ লড়াই নারী ও পুরুষ সবার। কারণ নারীকে উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান না দিয়ে সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। নারীর ওপর বৈষম্য, অবিচার ও অপমান বজায় রেখে কোনো সমাজ ও জাতি বিকশিত হতে পারে না। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে আমরা এ অঙ্গীকার করছি, এ লড়াইকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, মুক্ত ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে আমাদের সব অধিকার আমরা আদায় করব।’

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসছে ভারত
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ঈদের রাতেই সড়কে প্রাণ ঝরল ১৯ জনের
  • ২২ মার্চ ২০২৬
আমি এই কাজ করিনি—হাদি হত্যা প্রসঙ্গে ফয়সাল
  • ২২ মার্চ ২০২৬
বরগুনায় ‘সাই-ম্যাজিক কার্নিভাল’ উদ্বোধন করলেন চিফ হুইপ মনি
  • ২২ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড
  • ২২ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ৩ শিশুসহ নিহত ১২ জনের পরিচয় জান…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence