এক বছর ধরে বন্ধ ৫ হাজার শিক্ষকের বেতন, নেপথ্যে কী?

২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৬ AM
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক © ফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘ এক বছর ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নানা জটিলতা ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় এসব শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার মো. জহির উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও শিক্ষক-কর্মচারীরা তথ্য হালনাগাদ করেননি। যার কারণে এখনো অনেক শিক্ষক ইএফটিতে বেতন ভাতা পাননি। তথ্য সংশোধন না করা পর্যন্ত তারা বেতন-ভাতা পাবেন না।’

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে ছাড় হত। এই অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হত। ব্যাংকগুলো মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড়ের জন্য কয়েক পর্যায়ে অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কাজে অনেক ক্ষেত্রেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পেতে দেরি হয়। অনেক সময় পরের মাসের ১০ তারিখের পরও আগের মাসের বেতন-ভাতা জোটে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েকটি ধাপে স্কুল-কলেজের ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেওয়া হলেও এখনো এ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেননি প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

ইএমআইএস সেল জানিয়েছে, একই শিক্ষক বা কর্মচারীর নাম দুই প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত থাকার ঘটনা ধরা পড়েছে। এর ফলে ওই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব নম্বরের ভুল থাকায় বেতন-ভাতা অনেকের হিসাবে জমা হচ্ছে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় বা হিসাব নম্বরের সঙ্গে এমপিও শিটের তথ্য না মেলায় বেতন বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র বলছে, জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া নাম ও এমপিও শিটে থাকা নামের অমিল পাওয়া গেছে। কারও ক্ষেত্রে এনআইডিতে পূর্ণ নাম লেখা আছে, কিন্তু এমপিও শিটে সংক্ষিপ্ত নাম বা ভিন্ন বানান ব্যবহার হয়েছে। এর ফলে বেতন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতীয়করণ হওয়া কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও তালিকায় থাকলেও জাতীয়করণের পর আর এমপিওভুক্ত হিসেবে বেতন পাচ্ছেন না। 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভুল দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া নামের ভুলের পরিমাণও বেশি। এই দুই বিষয় ছাড়া ডাবল এমপিও এবং জাতীয়করণের কারণে অনেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বিষয়গুলো শিক্ষক-কর্মচারীদেরই সংশোধন করতে হবে। এটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেতন ইএফটিতে দেওয়া সম্ভব হবে না।

প্রাথমিকের দুই বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষককে শোকজ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাকের ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে বরেন…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
সুন্দরবনের জলদস্যুদের অন্ধকার জগতের গল্প শোনাতে খুবিতে আসছে…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ট্রাম্পের প্রচারণার পোস্ট থেকে সরানো হলো টেইলর সুইফটের গান
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্চেন্ডাইজার নিয়োগ দেবে আড়ং, আবেদন ১৫ আগ…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতনের চেক ছাড়
  • ১২ আগস্ট ২০২৬