বিভুরঞ্জন সরকার © সংগৃহীত
নিখোঁজের পরদিন মেঘনা নদী থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন দাবি জানিয়েছে ২৫৩ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর শোক ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বিভুরঞ্জন সরকারের নির্মম অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত ও স্তম্ভিত। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের সকল স্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। তারা ক্রমাগত হুমকি, নির্যাতন, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিশ্ব অঙ্গনে চরম উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির বার্তা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভুরঞ্জন সরকার-এর জীবন ও কর্ম ছিল মানবিকতা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি নির্ভীকভাবে সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর এই নির্মম অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জীবনসংহার নয়, বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক সংগ্রাম, সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সাথে এই ঘৃণ্য অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একটি নিরপেক্ষ, যথাযথ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি। একারণে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের কাছে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান নিশ্চিত করে বিশ্ববাসীর কাছে সত্য উদঘাটিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।