১২০০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি: ট্রান্সজেন্ডারদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা বন্ধ করুন

০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬ PM
১২০০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

১২০০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ বিভিন্ন পেশার ১২০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ‘ট্রান্সজেন্ডারদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা বন্ধ করুন’ শিরোনামে বিবৃতি প্রদান করেছেন। রবিবার (৮ মার্চ) এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা দেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ প্রদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় যুব পুরস্কার নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২৬ অনুসরণ করে নির্ধারিত আবেদন ফরমে মোট ২০টি পুরস্কারের মধ্যে ২টি (১০%) পুরস্কার ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সফল আত্মকর্মী ক্যাটাগরির ১৪টি পুরস্কারের মধ্যে ১টি এবং যুব সংগঠক ক্যাটাগরির ৬টি পুরস্কারের মধ্যে ১টি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সরকারি নীতিমালায় স্বীকৃত জেন্ডার মাত্র তিনটি— নারী, পুরুষ ও হিজড়া। “ট্রান্সজেন্ডার” নামে কোনো জেন্ডার এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। সেই বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে—সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থাকা একটি ধারণাকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো এবং সেই নীতিমালার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হলো?’

এতে আরো বলা হয়, ‘একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন— হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার এক বিষয় নয়। হিজড়া জন্মগতভাবে লিঙ্গগত জটিলতা বা প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত একটি মানবিক গোষ্ঠী। মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতকৃত প্রকৃত হিজড়াদের পুনর্বাসন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিকৃত মতবাদ যেখানে জন্মগতভাবে সুস্থ একজন পুরুষ নিজেকে নারী হিসেবে বা একজন নারী নিজেকে পুরুষ হিসেবে দাবি করেন।’

‘বাংলাদেশ একটি ৯১ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, যার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইসলামের সুস্পষ্ট শিক্ষার আলোকে এবং বিশ্বের অধিকাংশ আলেম-উলামার মতে তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডারবাদ একটি কুফরী মতবাদ যা মানুষের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক লিঙ্গ পরিচয়কে অস্বীকার করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই মতবাদকে বিভিন্ন শিক্ষানীতি, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে কৌশলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সেই প্রবণতা আরো জোরালোভাবে অব্যাহত ছিল। ফ্যাসিবাদী আমলে বহুল সমালোচিত “শরীফ-শরীফা” গল্প পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ প্রতিষ্ঠারই একটি অংশ ছিল।’

১২০০ জন নাগরিকের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা; কোনো বিতর্কিত মতবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া নয়। বিভ্রান্তিকর ও ধর্মবিরোধী এই ট্রান্সজেন্ডার ধারণাকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হলে তা হবে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে অবমাননার শামিল।’

দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অতএব আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি— জাতীয় যুব পুরস্কার নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২৬ সংশোধন করে ট্রান্সজেন্ডার কোটা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সরকার স্বীকৃত জেন্ডার কাঠামোর বাইরে কোনো পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, কর্মসূচি বা পুরস্কার ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা দিতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার দেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দ্রুত এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

বিবৃতিপ্রদানকারী শিক্ষকদের নামের তালিকা www.mullobodh.com এ প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিপ্রদানকারী বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে ৪৮ জন অধ্যাপক, ৩৮ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৬৭ জন সহকারী অধ্যাপক, ৬১ জন প্রভাষক বাদেও ১৪৮ জন অন্যান্য শিক্ষক, ৯৯ জন প্রকৌশলী, ৩৩ জন ডাক্তার, ৬১ জন ব্যবসায়ী এবং ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। 

বিবৃতিপ্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মমিনুজ্জামান, ডুয়েটের অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম, বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্বাস উদ্দীন শায়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড .শাফিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শামিমা নাসরিন জলি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিরুল ইসলাম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো: গালিব, নর্থ সাউথের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ বোরহান উদ্দীন, এশিয়া প্যাসিফিকের অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।

আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত:…
  • ১৫ মে ২০২৬
হোস্টেলে সমকামিতা: পদ হারালেন সেই দুই ছাত্রদল নেতা
  • ১৫ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৫ মে ২০২৬
জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রশাসন…
  • ১৫ মে ২০২৬
আ.লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গিয়ে মার খেয়ে হাসপাতালে ৫ ছাত্রদ…
  • ১৫ মে ২০২৬
নতুন কুঁড়ির কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলার পাশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্র…
  • ১৫ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081