সরকারের ৬ মাস

সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা, বাস্তবতার চাপ ও সরকারের ভেতরের চ্যালেঞ্জ

এ সময়ে তারেক রহমান সরকারের সামনে একদিকে পরিবর্তনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, বাজার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার কঠিন পরীক্ষা

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ PM , আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ PM
তারেক সালমান

তারেক সালমান © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকার পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছিল নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবমূর্তি নতুন করে নির্মাণের। সেই আকাঙ্ক্ষার কিছুটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগে। কিন্তু ক্ষমতার প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারকে এমন কিছু বাস্তব সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা নতুন সরকারের জনপ্রিয়তা ও সক্ষমতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ, প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রশ্ন, বড় সরকারি ক্রয় এবং দল ও সরকারের মধ্যে স্বার্থের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সরকারের সামনে এখন শুধু ‘কী করতে চায়’সেই প্রশ্ন নয়; বরং ‘কতটা কার্যকরভাবে করতে পারছে’সেটিই বড় হয়ে উঠেছে।
পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে যাত্রা

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারেক রহমান জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও সংস্কারমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে আসছেন। প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিতে সরকার তার রাজনৈতিক ম্যান্ডেটকে প্রশাসনিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে আগের সময়ের রাজনৈতিক বিভাজন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হবে না। কিন্তু প্রত্যাশা যত বেশি, ব্যর্থতার রাজনৈতিক মূল্যও তত বেশি।

বিদ্যুৎ-গ্যাসে বড় ধাক্কা
সরকারের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে এসেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দেয়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট জাতীয় ঘাটতি ছিল ৩৩৫ মেগাওয়াট; ৮ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৬৭ মেগাওয়াটে। ৯ আগস্ট গড় ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিং প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও তীব্র ছিল। নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছিল, দিন-রাত মিলিয়ে সেখানে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াটের একটি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রও গ্যাস সংকটে ২৬ দিন উৎপাদনের বাইরে ছিল।

সরকার অবশ্য সংকটের কারণ হিসেবে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, বৈরী আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলেছে। জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, এফএসআরইউ পুনরায় চালুর পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা।

প্রধানমন্ত্রীও সংকটের দায় এড়িয়ে না গিয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ সরকার সমস্যাটিকে অস্বীকার করছে না। বরং প্রশ্ন হচ্ছে—সমাধান কত দ্রুত দৃশ্যমান হয়।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও বলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন। পরিকল্পনায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের বক্তব্য অনুযায়ী, শীতকালে লোডশেডিং বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে স্বল্পমেয়াদে মানুষের দুর্ভোগ কতটা কমানো যায় তার ওপর।

বাজার: সরকারের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
বিদ্যুৎ-গ্যাসের পর সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিত্যপণ্যের বাজার। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে তার রাজনৈতিক অভিঘাত সরাসরি সরকারের ওপর পড়ে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যকার শক্তিশালী ব্যবসায়ী বলয় ও বাজার কারসাজি কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে।

সরকারের ভেতরের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে যে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে, প্রশাসনের সব স্তরে তার প্রতিফলন সমানভাবে ঘটছে না।

‘সরকারের ভেতরের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারকে ব্যর্থ করছে’—খোদ ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে আলোচিত একটি অভিযোগ উঠেছে। 

প্রশাসন ও দলের পুরোনো সমীকরণ
দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বিএনপির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আমলাতান্ত্রিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। ক্ষমতায় ফিরে সেই ব্যবধান দ্রুত পূরণ করা সহজ নয়।

সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে রাজনৈতিক সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করা। অন্যদিকে দলের তৃণমূল ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাও কম নয়।

সরকারি নিয়োগ, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই প্রত্যাশা যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তাহলে তারেক রহমানের ঘোষিত জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার নীতি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বোয়িং কেনায় নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন
সরকারের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এসেছে বিমান খাতের বড় বিনিয়োগকে ঘিরে। ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স—এই ১৪টি বিমানের চুক্তিমূল্য তালিকামূল্য হিসেবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরে সরবরাহের কথা রয়েছে।

বিমানকে লাভজনক ও আধুনিক করার যুক্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী হবে।

কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পায়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রকাশ্যে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোয়িং ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন এবং বাংলাদেশ সে অনুযায়ী ১৪টি বোয়িং কিনছে। তিনি একই সঙ্গে জানান, এয়ারবাসও কেনা হবে।

এর পরদিনই প্রকাশ্যে আসে ট্রাম্পের তারেক রহমানকে লেখা চিঠির খবর। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আশাও প্রকাশ করেন।

এখানেই সরকারের জন্য একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একটি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বহর আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত যদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে হয়, তাহলে সেটির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা সহজ। কিন্তু মন্ত্রীর বক্তব্যে যদি মনে হয়, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের অনুরোধের কারণে শত শত কোটি টাকার সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—ক্রয়ের মূল ভিত্তি কি ব্যবসায়িক প্রয়োজন, নাকি কূটনৈতিক বিবেচনা?

সরকারকে তাই শুধু বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নয়, এর আর্থিক কাঠামো, ঋণ, সার্বভৌম গ্যারান্টি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সম্ভাব্য আয় এবং বিনিয়োগের প্রত্যাবর্তন—সবকিছুর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিশেষ করে যখন বিমানকে লাভজনক করার লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে প্রতীকী রাজনীতি
সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিও আলাদা তাৎপর্য বহন করে। ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকালে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরে বাবা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান। পরে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং পাশের ক্রিসেন্ট লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

এটি ছিল বিএনপির জন্য বিশেষ এক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে; একই সঙ্গে এটি খালেদা জিয়াকে ছাড়া দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্ত করার মতো কর্মসূচি দিয়ে দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ ও জনকল্যাণের একটি প্রতীকী বার্তাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু একই সময় সরকারের সামনে বাস্তব প্রশ্ন—জনজীবনের সংকট কতটা কমছে।

রাজনীতির প্রতীকী ভাষা যতই ইতিবাচক হোক, বিদ্যুৎ না থাকা, গ্যাসের সংকট কিংবা বাজারে বাড়তি দামের অভিজ্ঞতা মানুষের রাজনৈতিক মূল্যায়নে আরও বেশি প্রভাব ফেলে।

সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা বনাম ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা
তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে জনগণ পুরোনো ধাঁচের শাসন দেখতে চাইবে না—এটাই স্বাভাবিক। সরকারের সামনে তাই একই সঙ্গে দুটি কাজ। একদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন; অন্যদিকে মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান।

বোয়িংয়ের মতো বড় বিনিয়োগে স্বচ্ছতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে দ্রুত প্রতিকার, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রশাসনে জবাবদিহি—এই চারটি ক্ষেত্র আগামী দিনের রাজনৈতিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শেষ কথা

ত্রয়োদশ সংসদের সরকার এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক পুঁজি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার পরীক্ষা একই সঙ্গে চলছে।

তারেক রহমানের সামনে সুযোগ রয়েছে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রত্যাশাকে একটি কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার মডেলে রূপ দেওয়ার। কিন্তু সেই কাজ কেবল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় সম্ভব নয়। প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসন, সমন্বিত নীতিনির্ধারণ, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা।

সরকারের ভেতর থেকে যদি স্বার্থের সংঘাত, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা কিংবা দলীয় চাপ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে, তাহলে সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান বাড়বে। আবার সরকার যদি সংকটকে অস্বীকার না করে দ্রুত সমাধানের পথে যেতে পারে, তাহলে প্রথম ছয় মাসের চাপই ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

পর্যন্ত তারেক রহমান সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি হবে বক্তৃতা বা প্রতিশ্রুতি নয়—মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তনের দৃশ্যমানতা।

বিদ্যুৎ কখন আসে, বাজারে দাম কতটা কমে, প্রশাসন কতটা জবাবদিহিমূলক হয়, রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ থাকে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে ত্রয়োদশ সংসদের সরকারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস 

ট্যাগ: মতামত
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন: গুগল ফরমে সমস্যা হলে যা করবেন
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে পলমল গ্রুপ, আবেদন ১৯ সেপ্টেম্বর পর্য…
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এফএইচ হলের প্রভোস্টকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন, উদ্বেগ জান…
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দুহাত তুলে যে দোয়া করলেন জামায়াত আম…
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা, বাস্তবতার চাপ ও সরকারের ভেতরের চ্যালেঞ্জ
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭, আহত ৫৩৬—কোন দলের কত
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
EIIN : 134209
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে
একাদশ শ্রেণিতে
ভর্তি চলছে
অনলাইন আবেদন ০২ - ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদন করুন

বিভাগ ও আসন সংখ্যা

বিজ্ঞান বিভাগজিপিএ ৪.০০
৫০০
ব্যবসায় শিক্ষাজিপিএ ৩.০০
৫০
মানবিক বিভাগজিপিএ ৩.০০
১০০

কেন হামদর্দ পাবলিক কলেজ?

  • প্রতি বছর শতভাগ পাস, ৭০% জিপিএ-৫
  • SCQ (Special Class & Quiz)
  • শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম ও আধুনিক ল্যাব
  • ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল সুবিধা
  • ক্লাস শুরু: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০১৮২৪-৫৫৭৮১২, ০১৬১১-৪৬৬৩৭৬