ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুন © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসী অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করায় ওই অনুষদের শিক্ষকরা উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে ফার্মেসী অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ফজলুল হক মুসলিম হলে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের অপরিহার্য অংশ। একইভাবে, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন দায়িত্ব পালনের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।
‘‘হক মুসলিম হলে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা অবশ্যই নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। তবে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে সে বিষয়ে বিচার চাওয়া সকলেরই মৌলিক অধিকার। কিন্তু অযৌক্তিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে অথবা মব সৃষ্টি করে কোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক বিচার করা যায় না। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। উদ্ভূত ঘটনার প্রেক্ষিতে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার পোস্টারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানহানির যে বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে তাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনসহ ফার্মেসী অনুষদের সকল শিক্ষক মর্মাহত যার ফলে অনুষদের একাডেমিক কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম সার্বিকভাবে ব্যহত হচ্ছে।’’
তারা বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র বিকৃত ছবি ও ধারণা প্রসূত বিষয় উল্লেখপূর্বক ব্যানার, পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কোনো পক্ষকে তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই দায়ী করার প্রবণতা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। আমরা মনে করি এই ধরনের ঘটনা আমাদের সহকর্মীকে আগে থেকেই সামাজিক, পারিবারিক এবং ব্যাক্তিগতভাবে চরিত্রহননের শামিল। ফার্মেসী অনুষদের সকল শিক্ষক এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে, যাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ব্যাহত করবে এবং আমাদের সহকর্মী তথা সকলের সম্মান রক্ষার্থে আমাদেরকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।
অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ফার্মেসী অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ মনে করে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এজন্য সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রাখে। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, প্রমাণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায় নির্ধারণ সময়ের দাবি। কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতির সাক্ষী হতে চাই না, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরায়ত আস্থার সম্পর্ককে পুনর্গঠন ও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
চিঠির শেষে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়সংগত সমাধান ও পারস্পরিক মর্যাদা রক্ষার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে ফার্মেসী অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।