এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ © সংগৃহীত
এক. বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন ছাত্রদলের একজন সাবেক সভাপতি এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আজ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত করেন। বিএনপির তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য ব্যাপারটি আসলেই সেলিব্রেট করার মতোই, কারণ এই প্রথম বারের মতো বিএনপির কোনো মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন ছাত্রদল বেকগ্রাউন্ডের কেউ। ব্যাপারটি ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। রিজভী ভাইয়ের এই দায়িত্ব মূলত সংগঠনে শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের সমন্বয়ে গড়ে উঠা পরীক্ষিত নেতৃত্বকেই সম্মান জানানো। দলের সকল পর্যায়ের দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতৃত্বের মূল্যায়নের মাধ্যমেই সংগঠন শক্তিশালী হবে।
দুই. রাজশাহী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার রাজনৈতিক জীবনের এক টার্নিং পয়েন্ট। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেকে পর্যায়ক্রমে তিনি ছাত্রদলের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসাবে সারাদেশে তাঁর নাম ডাক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি তাঁকে। দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে। তাঁর কমিটির সাধারণ সম্পাদক (রানিংমেট) ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ছাত্রনেতা নিখোঁজ এম.ইলিয়াস আলী। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে রিজভী আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এখনও সেই ক্ষত নিয়ে বয়ে বেড়ান।
তিন. এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিঝড়া দিন গুলোতে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদল ছিল আন্দোলন সংগ্রামে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায়। একজন ছাত্রনেতা হিসাবে রিজভী আহমেদ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে।রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্য বার কারাবরণ করেছেন।মাসের পর মাস কেটেছে কারাগারে। দিনের পর দিন রিমান্ডে কাটিয়েছেন। কিন্তু থেমে যাননি। মাটি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক অকুতোভয় সাহসী যোদ্ধা। বিএনপিতে তিনিই একমাত্র ত্যাগী জননেতা বিষয়টা এমনও নয়। তবে তিনি ব্যতিক্রম। রাজনীতিতে তিনি মাটি ও মানুষের ভাষা বুঝেন, সময়ের চাহিদা বুঝেন, রাজপথের ডাক শুনতে পান জীবনের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে। আজকের এই ভালো দিনটির জন্য তাঁকে অসংখ্য প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। অনেক লড়াই সংগ্রামের ভেতর দিয়েই একজন রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সৃষ্টি।
চার. বেগম খালেদা জিয়া শেষ বারের মতো গ্রেফতার হওয়ার পর মাসের পর মাস তিনি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন,ঘরে ফেরেননি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর ধ্যান জ্ঞান আর অস্তিত্বে যেন মিশে আছে বাংলাদেশের মাটি, মানুষের রাজনীতি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। অত্যন্ত সহজ সরল জীবন তাঁর।রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরে সমাজ পরিবর্তনের এক দুঃসাহসিক স্বপ্ন সারথি তিনি। দল এবং নেতৃত্বের প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট প্রশ্নাতীত। নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসটাই যেন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা! বিএনপিই যেন তাঁর পরিবার,আপনজন। 'কেরিয়ার পলিটিশিয়ান' বলতে যা বোঝায় রিজভী আহমেদ মূলত তাই। তাঁর রাজনীতির মধ্যে পড়াশোনা আছে,এক্টিভিজম আছে, সেক্রিফাইজ আছে, দল, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি সিরিয়াস কমিটমেন্ট আছে।বিশ্বাসঘাতকতা নেই। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির জন্য একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি যে ভূমিকা পালন করছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। দল তাঁর ডেডিকেশন এবং কমিটমেন্টকেও সেভাবেই মূল্যায়ন করেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে তিনি সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উপদেষ্টা ( মন্ত্রী পদমর্যাদা) হিসাবেও কাজ করছেন।
পাঁচ. রিজভী আহমেদের মতো নেতারা বিএনপির সম্পদ। রাজনীতি নিয়ে চারপাশে এতো হতাশা, এতো নেগেটিভিটির মধ্য তিনি ব্যতিক্রম। তরুণ প্রজন্মের যারা রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন তাদের সামনে তিনি শক্তি,সাহস এবং প্রেরণার নামই বটে। প্রতিকূল সময়ে কিভাবে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর তাকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের আবেগ, উচ্ছাস আর ফুলেল ভালোবাসা জানানোর বহর দেখে মনে হয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রিজভী আহমেদ একটা স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন। যে জায়গাটা সম্মান আর ভালোবাসার।রাজনীতির বিরাজনীতিকরণের এই যুগে এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদরা এখনও ব্যতিক্রম। তাঁ যেন কোনো তাড়া নেই, এমপি -মন্ত্রী হওয়ার! রাজনীতি যদি একটা শিল্প হয়ে থাকে তাহলে রিজভী আহমেদরা ডেফিনিটলি রাজনীতির বড় মাপের শিল্পী ।
লেখক: সহ- সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।