প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাদর্শন

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ PM
 প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম

প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শিক্ষা সব সময়ই একটি কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শিক্ষা-ভাবনা বিশ্লেষণে একটি অনন্য বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তখন মূল লক্ষ্য ছিল 'অ্যাক্সেস' বা শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দলটির বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষাকে একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক 'স্কিল-বেসড' বা দক্ষতা-নির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখছেন। এই রূপান্তর কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি জাতির মেধা-বিকাশের দর্শনগত পরিবর্তন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-দর্শনের মূলে রয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়নের আধুনিক তত্ত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শিক্ষার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা কোনো খরচ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। এই দর্শনটি মূলত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ থিওডোর শুলজ (Theodore Schultz)-এর 'Human Capital Theory'-এর সাথে হুবহু মিলে যায়। শুলজ দেখিয়েছিলেন যে, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামোর চেয়ে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা অনেক বেশি কার্যকর। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ভাষণগুলোতে চারটি প্রধান শব্দগুচ্ছ বারবার ফিরে এসেছে: 'কর্মমুখী', 'প্রযুক্তিনির্ভর', 'নৈতিকতা' এবং 'শিক্ষক মর্যাদা’। তিনি কেবল ডিগ্রিধারী বেকার তৈরি করতে চান না, বরং এমন এক প্রজন্ম গড়তে চান যারা গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে নিজেদের যোগ্যতায় স্থান করে নেবে। এটি আধুনিক শিক্ষার অন্যতম প্রবক্তা স্যার কেন রবিনসন (Sir Ken Robinson)-এর দর্শনের প্রতিচ্ছবি, যিনি বলেছিলেন, "আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কারখানার মডেলে পরিচালনা না করে অর্গানিক মডেলে পরিচালনা করা উচিত, যেখানে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকশিত হবে।"

প্রসঙ্গত বলা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে, নিরক্ষরতা দূর না করে একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর শিক্ষা দর্শনের মূলে ছিল শিক্ষাকে গণমুখী করা এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ১৯৭৮ সালে তিনি দেশে ব্যাপক হারে 'গণশিক্ষা কার্যক্রম' শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল বয়স্ক ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞান দান করা। তাঁর সময়েই ১৯৭৯ সালে 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ' আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গ্রামে গ্রামে নতুন স্কুল ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের জোয়ার আসে। তিনি কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যাতে যুবসমাজ আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। তাঁর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোই বাংলাদেশে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল বাংলাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে একটি 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯০-এর দশকে তাঁর সরকার মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় নারী ক্ষমতায়নের একটি রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত হয়। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তির হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায় এবং বাল্যবিবাহ হ্রাসে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তিনি ১৯৯২ সালে 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন' পাস করেন, যা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে অবারিত করে। 'খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা' কর্মসূচির মাধ্যমে হতদরিদ্র শিশুদের স্কুলমুখী করা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে।

প্রকৃতপক্ষে, বিএনপির শিক্ষানীতির বিবর্তনকে বিশদভাবে পাঁচটি স্বতন্ত্র ধাপে ভাগ করা যায়। প্রথম ধাপ (অ্যাক্সেস ও বিস্তার): ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তখন বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। ১৯৯২ সালে 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন' পাসের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে কেবল সরকারি গণ্ডি থেকে বের করে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। একই সময়ে 'খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা' এবং মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক স্তরে উপবৃত্তি চালু করা হয়। ইউনেস্কো (UNESCO)-এর মতে, এই পদক্ষেপগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী শিক্ষার হারে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছিল। এটি ছিল শিক্ষার 'গণতন্ত্রীকরণ' পর্যায়। দ্বিতীয় ধাপ (স্থায়িত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচন): ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি শিক্ষার সুবিধাগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাথমিক উপবৃত্তি প্রকল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, যাতে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়। এই সময়ের নীতিগুলোর মূলে ছিল 'দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষা’। তৃতীয় ধাপ (আইসিটি ও গুণগত মান): ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি প্রথমবারের মতো শিক্ষার রাজনীতিকরণমুক্ত পরিবেশ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর অঙ্গীকার করে। এই সময়েই 'গণমুখী ও কর্মমুখী' শিক্ষার ধারণাটি জোরালো হয়। চতুর্থ ধাপ (রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও ভিশন ২০৩০): দীর্ঘ ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় দলটি তাদের শিক্ষা-ভাবনাকে আরও তাত্ত্বিক রূপ দান করে। 'ভিশন ২০৩০' এবং '৩১ দফা' সংস্কার প্রস্তাবনায় শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের সাহসী ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি মূলত ইউনেস্কোর ইনচন ডিক্লারেশন (Incheon Declaration 2015)-এর একটি রাজনৈতিক বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা, যেখানে বলা হয়েছে যে টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার আয়ের একটি বড় অংশ শিক্ষায় ব্যয় করতে হবে। পঞ্চম ধাপ (ডিজিটাল রূপান্তর ও গ্লোবাল স্কিল): ২০২৫-২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন 'স্মার্ট লার্নিং' এবং 'মাল্টিলিঙ্গুয়াল কম্পিটেন্সি'র ওপর জোর দিচ্ছে। এবারের ইশতেহারে থাকা 'ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব', 'ফ্রি ওয়াই-ফাই' এবং 'বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা' শিক্ষা মূলত শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (Fourth Industrial Revolution) উপযোগী করে তোলার একটি রোডম্যাপ।

তারেক রহমান তাঁর একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, "শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, তারা দক্ষতা অর্জন করবে।" এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বিশ্বখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ টনি ওয়াগনার (Tony Wagner)-এর ধারণার পরিপূরক। ওয়াগনার তাঁর 'The Global Achievement Gap' গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, বর্তমান যুগের শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে সমালোচনামূলক চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। তারেক রহমানের প্রস্তাবিত 'কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা' বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এই গ্লোবাল ট্রেন্ডেরই অংশ। ২০২৬-এর ইশতেহারে উচ্চমাধ্যমিকের আগেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বাংলাদেশের বিপুল তরুণ সমাজ আর কেবল চাকরির পেছনে ছুটবে না, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি মূলত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ। কোনো শিক্ষানীতিই সফল হতে পারে না যদি শিক্ষকরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে অবহেলিত থাকেন। তারেক রহমানের দর্শনে শিক্ষক কেবল একজন সরকারি কর্মচারী নন; তিনি হলেন 'পরিবর্তনের কারিগর’। তিনি প্রস্তাব করেছেন একটি 'উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা সংস্কার কমিশন' গঠনের, যার কাজ হবে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। বিখ্যাত শিক্ষাবিদ নোয়াম চমস্কি (Noam Chomsky) একবার বলেছিলেন, "শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কীভাবে শিখতে হয় তা শেখানো।"

তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, এই কাজটি করার জন্য মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁর দর্শনে শিক্ষকতা হবে 'চয়েস', কোনো 'লাস্ট রিসোর্ট' বা নিরুপায় বিকল্প নয়। শিক্ষকদের জন্য 'মেরিট-বেজড রিক্রুটমেন্ট' এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারটি এই পেশার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা।

২০২৬ সালের বিএনপি ইশতেহারের একটি বৈপ্লবিক দিক হলো প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এবং জেলায় জেলায় পলিটেকনিক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি। এর পাশাপাশি 'এডু-আইডি' (Edu-ID) এবং ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে ডিজিটালাইজ করার কথা বলা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'তৃতীয় ভাষা' শিক্ষা। বর্তমান গ্লোবাল ইকোনমিতে কেবল ইংরেজি যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন, যা আমাদের জনশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। এটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সেই গবেষণার সত্যতা প্রমাণ করে যেখানে বলা হয়েছে, বহুভাষিক শিক্ষার্থীরা অন্যদের তুলনায় দ্রুত সমস্যা সমাধানে দক্ষ হয়। বিএনপির বর্তমান শিক্ষা-ভাবনায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়নি। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মাদ্রাসাগুলোতে 'স্মার্ট ক্লাসরুম' এবং আধুনিক কারিগরি কোর্স চালুর কথা বলা হয়েছে। এটি মূলত 'আধুনিকতা ও আধ্যাত্মিকতা'র এক অপূর্ব সমন্বয়। কওমি সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন এবং আলেমদের আইটি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার মাধ্যমে এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)-এর সেই ধারণার সাথে মিলে যায়, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক কর্মস্পৃহা একসাথে চললে সমাজ দ্রুত উন্নতি করে। সমালোচকরা প্রায়ই প্রশ্ন তোলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া কি সম্ভব? বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোতে এটি অত্যন্ত কঠিন। তবে অমর্ত্য সেন তাঁর 'Development as Freedom' গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছেন যে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়কে 'খরচ' না দেখে 'সামাজিক নিরাপত্তা জাল' হিসেবে দেখা উচিত। বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং মেগা প্রজেক্টের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সেই অর্থ শিক্ষা খাতে ডাইভার্ট করা হবে। এটি একটি সাহসী রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বারবার বলে আসছে যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে তার মানবসম্পদের গুণগত মানের ওপর। সুতরাং, শিক্ষা খাতে এই বিশাল বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবেও অপরিহার্য।

বস্তুত বিএনপির শিক্ষানীতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-দর্শন কেবল একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; এটি একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহার। এই দর্শনের কেন্দ্রে আছে একজন দক্ষ মানুষ, যার হাতে থাকবে প্রযুক্তির শক্তি এবং হৃদয়ে থাকবে নৈতিক মূল্যবোধ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা (Francis Fukuyama)-এর ভাষায়, "প্রতিষ্ঠানের মান নির্ভর করে সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মানুষের গুণের ওপর।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা সেই 'গুণসম্পন্ন মানুষ' তৈরির কারখানা গড়ার হাতিয়ার। ২০২৬ সালের এই রূপরেখা যদি সঠিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশ কেবল মধ্যম আয়ের দেশ নয়, বরং একটি মেধাসম্পন্ন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। নীতির এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ হবে বিশ্বের জন্য এক নতুন রোল মডেল।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাবেক চেয়ারম্যান, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে প্রধানমন্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে মুয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থা…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে শতাধিক নেতাকর্মীর যোগদান, আছেন মুক্তিযোদ্ধা ও জুলা…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাদর্শন
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে তেহরান
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬