গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয় © টিডিসি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫৩ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন এন্ট্রি না করায় তারা উপবৃত্তি পায়নি।
রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণির ১২৪ জন এবং সপ্তম শ্রেণির ১২৯ জনসহ মোট ২৫৩ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিদ্যালয়ে জমা দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এন্ট্রি ও দাখিল না করায় তারা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
এ বিষয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভক্তি বিশ্বাস ও তিথি সেন জানায়, তারা নিয়ম অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে তারা উপবৃত্তির টাকা পায়নি।
অভিভাবক অসীম বিশ্বাস ও কার্তিক বাইন বলেন, আমরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। উপবৃত্তির টাকা পেলে সন্তানদের বই-খাতা ও পরীক্ষার ফিসহ পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারতাম। আমাদের অনেক উপকার হতো। এখন পরীক্ষার ফি দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা তুষার কান্তি বাইন বলেন, আমি বিভিন্ন সময় স্কুলে যাতায়াত করি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন কম্পিউটারের সমস্যার কারণে সময়মতো আবেদন অনলাইনে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে চেষ্টা করা হলেও আর উপবৃত্তির সুযোগ ফিরে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মা-বাবা মাঠে কাজ করেন। তাই উপবৃত্তি না পাওয়ায় তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বিদ্যালয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যান। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্র দেব বিশ্বাস ও অফিস সহায়ক গণেশ টিকাদার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, কিছুক্ষণ আগেও প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরে তিনি কোথায় গেছেন, তা তারা জানেন না। বিষয়টি নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.সেলিম তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছিল। এরপরও কেন আবেদন অনলাইনে এন্ট্রি করা হয়নি, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি নিয়ে আরও কিছু অভিযোগও রয়েছে, যা পরিদর্শনে গিয়ে প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনেক গাফিলতি রয়েছে।অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।