তরুণীর বিরুদ্ধে ছেলে পরিচয়ে বিয়ে করার অভিযোগের পর সালিস ডাকা হয় © সংগৃহীত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ছেলে সেজে বিয়ে করার অভিযোগে এক তরুণীকে (২৩) সালিসে বেত্রাঘাত ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের পর উপজেলার একটি গ্রামে এ সালিস বসানো হয়। সালিসে তরুণীকে বেত্রাঘাতের ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসের মাঝখানে শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি হাতে বেত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীকে তিনি প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করছেন। এ সময় সালিসে উপস্থিত লোকজন তাদের চারপাশে গোল হয়ে বসে ছিলেন। পরে তরুণীকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সবার সামনে তওবা পড়ানো হয়। এ সময় ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে পলাশবাড়ী উপজেলার আরেক তরুণীর (২০) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একসঙ্গে থাকার সুবাদে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ভুক্তভোগী তরুণী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি জানার পর তিনি মেয়েকে শাসন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করেন। পরে তিনি সমাজের মানুষের কাছে বিচার দিলে শুক্রবার বাড়ির পাশে সালিস বসানো হয়। সালিসের কথা শুনে অন্য তরুণীটি তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
সালিসে তরুণীকে বেত্রাঘাত করা ব্যক্তি মাহফুজ আহমেদ। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একই এলাকার বাসিন্দা। মাহফুজ আহমেদের ভাষ্য, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তরুণীর বাবার অনুরোধে সালিস করা হয়। তা না হলে উত্তেজিত জনতা মব তৈরি করে বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারত বলে তিনি দাবি করেন।
মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তরুণীর বাবার অনুরোধে সালিস করা হয়। না করলে উত্তেজিত জনতা মব তৈরি করে বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারত।’
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তার বাড়িতে যান পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।
ওসি সরোয়ার আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, ওই তরুণী তাকে জানিয়েছেন, তিনি অপরাধ করেছেন এবং এলাকার লোকজন তাকে শাসন করেছেন। এ ঘটনায় তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ কারণে এ নিয়ে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ওসি।