ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ © সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজন নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তিতে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের বৈঠকে সমঝোতার পর মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ সদস্যের বাসায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও কলেজ ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও কনসার্ট আয়োজনের কথা ছিল। তবে কনসার্টের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে শুক্রবার সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন সংসদ সদস্য। আলোচনার পর মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ অনুষ্ঠান এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়।
বৈঠকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন সদস্য অংশ নেন। অন্যদিকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সরকারি কলেজ মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।’
দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অশ্লীলতা হবে না’- এই শর্তে ভেতরের মাঠে (দক্ষিণ ক্যাম্পাস) অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। নবীনবরণ ও আলোচনা সভা মূল ক্যাম্পাসে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হককে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের উপাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন বলেন, ‘দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ছোট পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। মূল ক্যাম্পাসের পাশেই একই সময়ে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ খেলা চলছে। তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আমরা সরিয়ে নিয়েছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘কলেজের লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। একটা সমঝোতা হয়েছে।’
বৈঠকের পর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে কোনো ধরনের কনসার্ট হবে না, শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
পোস্টে বলা হয়, নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট স্থগিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ কনসার্ট স্থগিতের দাবি মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম বহাল রাখার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের জন্য বড় আকারের প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে চেয়ার আনার কাজ চলছিল। দক্ষিণ ক্যাম্পাসের দক্ষিণ পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছিল।