কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া আইকনিক পরিবহনের স্লিপার বাস ও ইনসেটে সাংবাদিক আতাউর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত
সম্প্রতি কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০০২-২০০৩ ব্যাচের সাবেক একদল শিক্ষার্থী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাণে বেঁচে ফেরার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন দুর্ঘটনার শিকার সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আতাউর রহমান।
রবিবার (৬ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দুর্ঘটনার বিষয়টি তুলে ধরেন।’
ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—
সবার দোয়ায় দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। শুক্রবার ভোরে কুয়াকাটার পথে যে স্লিপার বাসটি উল্টে পুকুরে পড়েছিল, সেটিতে আমিও ছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০২-০৩ ব্যাচের ৪৩ জন সাবেক শিক্ষার্থী ছিলাম আমরা। বাসটি পানিতে ছিটকে পড়ার পর ভেবেছিলাম, হয়তো মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছি।
তবে আপনাদের সবার দোয়ায় এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুততম সময়ে বাসের জানালা ভেঙে আমাদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করে এবং আল্লাহর রহমতে আমরা প্রাণে রক্ষা পাই। ভয়ঙ্কর এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুভাকাঙ্খিরা নানাভাবে খোঁজ নিয়েছেন।
আমার মোবাইল ফোন পানিতে নষ্ট হওয়ায় সাড়া দিতে পারিনি। সাময়িকভাবে একটি নম্বর সক্রিয় করার পর পরিচিতজনরা যেভাবে খবর নিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন, তাতে আমি আপ্লুত। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা।
এতো বড় দুর্ঘটনার পরও যতটা আহত হওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো রেখেছেন মহান আল্লাহ। বাসের ভেতর থেকে বের হওয়ার সময়ে ভাঙা কাচে আঘাত পাওয়া ছাড়া বড় কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই কম-বেশি আহত হলেও বন্ধুরাও ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ। সবার দোয়া চাই।
জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া স্লিপার বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০০২-২০০৩ ব্যাচের সাবেক ৪৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইকনিক পরিবহনের বাসটি তারা রিজার্ভ নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমনে যাচ্ছিলেন।
আহত হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে স্লিপার বাসটি ঢাকা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০২-০৩ ব্যাচের ৪৩ জন সাবেক শিক্ষার্থী পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা করেন। বাসটি সকাল পৌনে ৭টার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছালে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। এতে তারা সবাই কম-বেশি আহত হন। স্থানীয় লোকজন বাসের গ্লাস ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খলিলপুরে স্থানীয় একটি মসজিদ ও মাদ্রাসার সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে ছিটকে পড়ে। তখনও অনেক মুসল্লী মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন। ওই অবস্থায় তারা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। এক পর্যায়ে শাবল ও ইট দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আহত পর্যটক রাসেল রহমান বাপ্পী বলেন, বাসাটিতে থাকা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০২-২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা নানা পেশায় রয়েছেন। তাই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিতে কুয়াকাটায় একটি পুর্নমিলনীর আয়োজন করেছিলেন সবাই মিলে। সেখানে যাওয়ার পথে তাদের বাসটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা পড়ে। সবাই কম-বেশি আহত হলেও সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করায় রক্ষা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনার সময়ে তিনি সজাগ ছিলেন। দ্রুত গতিতে চলার সময়ে বাসটি কাঁপছিল। এতে ধারনা করছেন, চালক ঘুমের মধ্যে সেটি চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সড়কের বাম পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডান দিকে একটি পুকুরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
উদ্ধার কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাসটি পানিতে ছিটকে পড়ার পর একদিন পুরোটা ডুবে গিয়ে পানি ঢুকে যায়। তাদের কয়েকজন ভেতর থেকে হাত দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙার চেষ্টা করেন। তবে খুব দ্রুততম সময়েই মসজিদের মুসল্লি ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। তারা শাবল ও ইট দিয়ে বাইরে থেকে জানালা ভেঙে একে একে সবাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় লোকজন অতি দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করাতেই তারা সবার প্রাণ রক্ষা হয়েছে।