পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে দেড়শ’ বছরের পুরোনো পাবনা পৌরসভার কার্যক্রম

২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ AM
একশ পঞ্চাশ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান পাবনা পৌরসভা

একশ পঞ্চাশ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান পাবনা পৌরসভা © টিডিসি ফটো

জনবল সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় জর্জরিত একশ পঞ্চাশ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান পাবনা পৌরসভা। প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভায় এত বছরেও হয়নি একটি নতুন ভবন। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম।

১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা পৌরসভা। এরপর ১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার তালিকায় স্থান পেলেও নগরবাসীর সেবার মান অনেকটাই তলানিতে। নেই কোন আধুনিক সেবাদানের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা। পুরোনো আর লক্কর ঝক্কর যানবাহনের পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় দেড় কোটি  টাকা সমমূল্যের নতুন কয়েকটি যানবাহন সেবার তালিকায় যোগ হয়েছে। সেগুলো রাখার সেডসহ রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে গাড়িগুলো। যার ফলে অল্পদিনেই সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, যে ভবনে পৌর দাপ্তরিক সেবা দেয়া হচ্ছে সেটি ২০১২ সালে সরকার কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মানের জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই দেখা যায়নি। যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই দিতে হচ্ছে সেবা। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট রয়েছে প্রকট। স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারীর পদ আছে ১২৪টি। কিন্তু কর্মরত আছে ৭১ জন, শুন্য আছে ৫৩টি পদ। ২৭ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার আয়োতনের পৌরসভায় রয়েছে ২২০ কিলোমিটার সড়ক। যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ৩ জন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার কথা। সে হিসেবে প্রয়োজন ৬৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র ১৯৪ জন, আর শুন্য ৪৬৬ জন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার এর জন্য প্রয়োজনীয় ১২০ জনের বিপরীতে কাজ করছে মাত্র ৪৫ জন। শুন্য ৭৫ জন। নতুন করে নিয়োগ না থাকায় এই অল্প সংখ্যক জনবল দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।

পাবনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন, সারাবছর ময়লা আবর্জনার ও অপরিষ্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভোগান্তি থাকলেও বর্ষায় তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নিয়মিত পরিষ্কার এর অভাবে একটু বৃষ্টি হলেই বেশিরভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরে। এই ভোগান্তি বর্ষা শেষ হওয়ার পরও কয়েকমাস পোহাতে হয়। কিছু কিছু এলাকায় বছরের প্রায় আট মাসই জলাবদ্ধতা থাকে।

পৌরসভার দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা কমল সেন বলেন, শুধু দফায় দফায় পৌরকর বাড়ানোর এবং তা পরিশোধের তাগাদা দেওয়া ছাড়া সময়োপযোগী কোন পদক্ষেপ নেই। এভাবে চলতে থাকলে জনগন রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। সরকারের উচিৎ এ প্রতিষ্ঠান এর সমস্যা সমাধানে নজর দেওয়া।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাস বলেন, পাবনা পৌরসভা নাগরিক হিসেবে আমরা সবচেয়ে বেশি হতভাগা, যাদের দেখার কেউ নেই। দেড়শত বছর এর পৌরসভা কিন্তু যুগের পর যুগ চলে গেলেও সেবার মান বাড়েনি। আমরা চাই অবিলম্বে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা হোক।

পাবনা বিসিক শিল্পনগরী সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন রাজা বলেন, পৌরসভার প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে সমস্যা বিরাজ করছে। সম্মিলিতভাবে এটি সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। পৌরসভার সেবার মান উন্নতি হলে তবেই আমরা সুস্থভাবে বসবাস করতে পারবো।

তবে সংকট নিরসন ও সম্ভাবনার কথা জানিয়ে পাবনা পৌরসভার প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সহযোগিতায় প্রবৃদ্ধি প্রকল্পে পৌরসভাকে অন্তর্ভুক্ত করতে সুপারিশ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে  বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা ডিপিপি বেসরকারি পরিপত্র হিসেবে গণ্য করেছেন। গত ৭ জুলাই নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।  

তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় কর্মরত হরিজন কলোনিতে তাঁদের বসবাসের জন্য বহুতল ভবন নির্মানের পাশাপাশি তাদের বসবাসযোগ্য বাসস্থান এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমাদের সমস্যা ও সংকট নিরসনে সরকারের কাছে বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছি এবং আবেদন ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করি। এটা এক নাম্বার পৌরসভা সেবার মানেও এক নাম্বার হবে বলে আশা করি।

হবিগঞ্জে ছাত্রদল-বিএনপির হামলায় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চোখ হ…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিকের শিক্ষিকারা যা করছেন, তা আমরা সমর্থন করি
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ৪ চিকিৎসককে বরখ…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
রুয়েটে শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ‘এমএসই ডে ২০২৬' অন…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
বেড়িবাঁধ ভাঙার আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ 
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
তিন মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ঝুলছে তালা, ব্যাহত স্বাস্থ্যস…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬