বিরল প্রজাতির ‘সোলজারফিশ’ © টিডিসি ফটো
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলে ইদ্রিস মাঝির জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ‘সোলজারফিশ’, যা স্থানীয়ভাবে ‘সৈনিক মাছ’ নামেও পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের ‘সিফাত ফিশ’ আড়তে নিয়ে আসা হলে এর উজ্জ্বল লাল-গোলাপি বর্ণ ও আকর্ষণীয় গড়ন দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। মাছটি স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত হওয়ায় এবং এটি খাওয়ার উপযোগী কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় বর্তমানে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এফবি ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস গভীর সমুদ্রে ইলিশ ও পোয়া মাছ ধরার সময় জালে এই বিরল মাছটি পান। দীর্ঘ জেলে জীবনে এমন মাছ আগে কখনো না পাওয়ায় এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেটি সমুদ্রে ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসেন।
ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার সাগরে যাওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়ল।’
সিফাত ফিশের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘মাছটি দেখতে সত্যিই অনেক সুন্দর। আগে কখনো আমাদের বন্দরে এমন মাছ আসেনি। এটি খাওয়ার উপযোগী কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই এটি সংরক্ষণের জন্য বরফে রাখা হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, সোলজারফিশের শরীর উজ্জ্বল লাল বা গোলাপি রঙের এবং এর চোখ শরীরের তুলনায় বেশ বড়। গায়ের আঁশ শক্ত ও খসখসে হওয়ায় দূর থেকে মনে হয় যেন কোনো সৈনিক বর্ম পরে আছে। এ কারণেই এর নাম ‘সোলজারফিশ’। মাছটি সাধারণত দলবদ্ধভাবে গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর বা পাথুরে এলাকায় বসবাস করে। এর বৈজ্ঞানিক নাম মাইরিপ্রিস্টিস মারজান।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে কর্মরত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সোলজারফিশ হলো ‘হলোসেন্ট্রিডি’ পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গভীর সমুদ্রে এদের বিচরণ দেখা যায়। ছোট মাছ, চিংড়ি ও জুপ্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকা এই মাছগুলো সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিকভাবে এটি বিরল না হলেও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘এটি ‘পাইনকোন সোলজারফিশ’ নামেও পরিচিত। আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে সচরাচর এ মাছ ধরা পড়ে না বলেই এটি স্থানীয়দের কাছে অচেনা। এ ধরনের মাছের উপস্থিতি বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ ও সুস্বাস্থ্যকর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দেয়।’
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে গিনি অ্যাঞ্জেলফিশ, লায়নফিশ, ফাইলফিশ ও প্যারটফিশের মতো আরও কয়েকটি বিরল সামুদ্রিক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে এবং কিছু মাছ সৈকতে ভেসেও এসেছে। এসব ঘটনা বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ ও আশার সঞ্চার করেছে।