আসিফ হাসানের কবর জিয়ারতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা এবং শহীদের স্বজনরা অংশ নেন © টিডিসি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাতক্ষীরার প্রথম শহীদ আসিফ হাসানের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দেবহাটা উপজেলার আসকারপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা এবং শহীদের স্বজনরা অংশ নেন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন দেবহাটা উপজেলার আসকারপুর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ হাসান। তার আত্মত্যাগের স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কবর জিয়ারতে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সাতক্ষীরা জেলার আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন, মুখ্য সংগঠক আলসারিয়া রুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাকিব, কলারোয়া উপজেলা আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সাবেক দেবহাটা উপজেলা আহ্বায়ক মুজাহিদ বিন ফিরোজ, জুলাই আন্দোলনে আহত জিল্লুর রহমান, আবু বক্কার, আবুল হাসান, আব্দুল আজিজ, সুধীজন আবু সাঈদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আসিফ হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় শহীদের বাবা ও তার ভাই আসিফের শাহাদাতের দিনের স্মৃতিচারণ করেন। তাদের আবেগঘন বক্তব্যে উঠে আসে আসিফের সাহস, স্বপ্ন এবং পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির কথা। উপস্থিত সবাই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই স্মৃতিচারণ শোনেন এবং শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, শহীদ আসিফ হাসানের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ন্যায়, অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আদর্শ নিয়ে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তারা শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।