গারো পাহাড়ে বাড়ছে বন্য হাতির বিচরণ, গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম ‘এলিফ্যান্ট করিডর’

১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ PM , আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ PM
গারো পাহাড়ে বন্য হাতির পাল

গারো পাহাড়ে বন্য হাতির পাল © আয়মান নকিব

সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের গারো পাহাড়ে ক্রমেই বাড়ছে বন্য এশিয়ান হাতির বিচরণ। নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতির প্রায় ৪২ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি বনাঞ্চলে নিয়মিত দেখা মিলছে শাবকসহ হাতির পাল। বন সংরক্ষণ, খাদ্য উপযোগী গাছ রোপণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ফলে এলাকাটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সবুজ পাহাড়, গভীর বন আর হাতির অবাধ বিচরণ—এই বিরল দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন গারো পাহাড়ে। অনেকেই এলাকাটিকে প্রাকৃতিক ‘সাফারি পার্ক’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে কোনো কৃত্রিম সীমানা বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় হাতি ও মানুষের উভয়ের জন্যই ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গারো পাহাড় এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব একটি বড় সমস্যা ছিল। খাদ্যের সন্ধানে বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে এলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি ও অসংখ্য বসতঘর। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় মানুষের আক্রমণ ও দুর্ঘটনায় হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, বন বিভাগের উদ্যোগে হাতির খাদ্য উপযোগী গাছ রোপণ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বন সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে হাতি-মানুষের সংঘাত কিছুটা কমেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার কারণে হাতির ভিডিও ধারণ করতে প্রতিদিনই পাহাড়ে ভিড় করছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও দর্শনার্থীরা। অনেকেই হাতির খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আমানউল্লাহ আমানের পথে হাঁটতে যাচ্ছেন সাদিক কায়েম!

শেরপুর ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের রেঞ্জার মো. আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘খাদ্য সংকটের কারণেই হাতি লোকালয়ে আসে। এ সমস্যা সমাধানে পাহাড়ি বনাঞ্চলের প্রায় ৬ একর জমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। আরও কয়েক বছরের মধ্যে এসব গাছ হাতির পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে উপযোগী হবে। তখন হাতির খাদ্য সংকট অনেকটাই কমে যাবে।’

তিনি আরও জানান, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী সম্প্রতি হাতির চলাচলের পথে ১৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংরক্ষণ কার্যক্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে গারো পাহাড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আর শেরপুর পেতে পারে নতুন পরিচয়—‘হাতির জেলা’।

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আপাতত থেমে গেলাম, বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটো…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ বছর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন ইরাকপ্রবাসী, ডাক্তার দে…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মজা করে বলছিলেন, তুমি আবার যাবা আমার স…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৫৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে চালু হবে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউ…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬