জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা © টিডিসি ফটো
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজনের ধরন এবং বক্তা নির্বাচন—দুই বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রচলিত প্রিন্টেড ব্যানার বা স্মারক ব্যাকড্রপের পরিবর্তে একটি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে ‘জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা’ লিখে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় জুলাই আন্দোলনের কর্মী খাইরুল ইসলাম বলেন, শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এমন একটি অনুষ্ঠানে অন্তত একটি প্রিন্টেড ব্যানার ও সম্মানজনক পরিবেশ থাকা উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের আয়োজন শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে দক্ষিণ আইচা থানা যুবলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এবং বর্তমানে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন বিপ্লবকে রাখা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন।
এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম শাহ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম শাহ বলেন, মহিউদ্দিন বিপ্লবকে মূল বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সম্ভবত তিনি একটি বা দুটি গজল পরিবেশন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে, সেটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগপন্থী হওয়ায় এবং তিনি নিজে বিএনপির সভাপতি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। অনুষ্ঠানের দিন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার আরও আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই শহীদদের স্মরণে আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু আমি জানি না।
অপরদিকে, সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ অনুষ্ঠান আয়োজনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ প্রধান বক্তা নির্বাচনকে ঘিরে আপত্তি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মহিউদ্দিন বিপ্লব প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তাদের আরও অভিযোগ, সে সময় তিনি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সকাল ১০টায় চরফ্যাশনে যুবলীগের একটি বৈঠক শেষে দক্ষিণ আইচায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিকাল ৪টায় দক্ষিণ আইচা থানা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন।