অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন © টিডিসি ফটো
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে অবৈধ ভারতীয় পণ্য চোরাকারবারিতে জড়িত কামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আদালতে প্রেরণ করা হয়। কামাল উদ্দিন একই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহ এর ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটককৃত কামাল দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় ভারত বাংলাদেশ বর্ডার সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বেচাকেনার এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। সে বাংলাদেশের নাগরিক হলেও তাকে বাংলাদেশের মোবাইল নম্বরে পাওয়া যায় না। তার সাথে যোগাযোগ করতে হলে ভারতীয় নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে হয়। তার বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ভারতীয় পণ্য আটকের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে (মামলা নং ২৯ ও ২৭)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করেরহাট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকার চোরাচালানের মূল হোতা কামাল উদ্দিন, ইমন, জানু মিয়া, সেলিম উদ্দিন, ফারুক। তাদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন পণ্য পাচার করেন। মিরসরাই উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে একটি পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার। মূলত মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলো ভারতের সীমানার কাছাকাছি পড়েছে। এসব পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, কাপড়, থ্রি পিস, গরু, হরলিক্স ও নানান রকম চকলেট।
গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। ২৮ জুন ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। ৩০ জুন ১৯টি ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, কামাল উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সাথে জড়িত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। বুধবার রাতে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কামাল ভারতীয় সিম ব্যবহার করে থাকেন। সে বিয়েও করেছে ভারতে। তার সাথে সিন্ডিকেটে আরো একাধিক ব্যক্তি রয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।